তিয়াষা গুপ্ত, টিডিএন বাংলা : লোকসভা ভোটের আগে তিন তালাক আইনে পরিণত করতে অনেক চেষ্টা করেছেন মোদি। লোকসভার হার্ডল টপকালেও রাজ্যসভায় এসে থমকে দাঁড়িয়েছে বিলের ভবিষ্যৎ। এই অবস্থায় কংগ্রেস গতকালই জানিয়ে দিয়েছে, তারা ক্ষমতায় এলে তিন তালাক বিল বাতিল করবে। এরপর এই নিয়ে ফের আসরে নামলেন মোদি। স্থান জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ি। সেখান থেকে কংগ্রেসকে নিশানা করে মোদি বলেন, তিন তালাক আইন নিয়ে কংগ্রেস কিছু করেনি। মোদির কথায়, কংগ্রেস বলছে, তিন তালাক বিরোধী আইন বাতিল করবে। অর্থাৎ তিন তালাক চলতে দেবে। মুসলিম মা বোনেদের সর্বনাশ হতে দেবে। মুসলিম সমাজের একাংশ মনে করে, এতে মুসলিম মহিলাদের ক্ষমতায়ণ সম্ভব হবে না। তা সত্ত্বেও একে আইনে পরিণত করতে চেষ্টার কোনো কমতি করেননি মোদি। এদিনও ফের এই প্রথা বিলুপ্ত করার পক্ষে সওয়াল করলেন।

সম্প্রতি সিবিআই-কলকাতায় পুলিশ দ্বৈরথ নিয়ে জল অনেক দূর গড়িয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে। মমতা ধর্নায় বসেছেন। সমর্থন পেয়েছেন জাতীয় রাজনীতির। সবাই এক সুরে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন। কলকাতার মাটি থেকে নতুন করে বিরোধী ঐক্য দানা বেধেছে সিবিআই কাণ্ড ঘিরে। তাই কি মোদির গলায় এত উদ্বেগ! এদিন মমতার রাজ্যেই এসে ধর্না নিয়ে দিদিকে কটাক্ষ করলেন মোদি। তাঁর কথায়, বাংলায়
দাদাগিরির সরকার চলছে। দুর্নীতিগ্রস্তদের বাঁচাতে আর কোথায় কোথায় ধর্না দেবেন মমতা? তাঁর কথায়, চিটফান্ড কাণ্ডে বহু মানুষ সর্বস্ব খুইয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মমতাকে মোদির প্রশ্ন, ঠগদের জন্য এত দরদ কেন আপনার? একইসঙ্গে তাঁর প্রতিশ্রুতি, যারা গরিব মানুষের টাকা লুটেছে, তারা শাস্তি পাবে।

বাংলায় সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে আগেও বলেছেন, এদিনও বললেন। তাঁর কথায়, দিদি দিল্লি যাওয়ার কথা বলছেন, এদিকে সিন্ডিকেট রাজে নাজেহাল মানুষ। আগে সেই দিকে খেয়াল রাখুন। মোদির পরামর্শ। গতকাল সংসদে দাঁড়িয়ে মহাজোট নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন মোদি। এদিন একইভাবে বলেন, মহাজোট হল মহাভেজাল।
শুক্রবার বিকেলে জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির সভয় পৌঁছন নরেন্দ্র মোদি। প্রথমেই বলেন, উত্তরবঙ্গের সঙ্গে তাঁর চায়ের সম্পর্ক। কারণ তিনি নিজে একজন চাওয়ালা। আর উত্তরবঙ্গ চা এর জোগানদার। এরপরেই মমতাকে আক্রমণ করে মোদি বলেন, একজন চাওয়ালাকে এত ভয় কিসের? ঠাকুরনগর ও দুর্গাপুররে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এদিন তৃণমূলকে একের পর এক নিশানা করেন মোদি। তাঁর কথায়, যে পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি নিয়ে গর্ববোধ হত, সেখানে আজ হিংসা ঢুকে গেছে।

শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দরে দুপুর ৩টে ১০- এ নামেন মোদি। তারপর কপ্টারে ময়নাগুড়ির সভামঞ্চে যান। মোদিপৌঁছাতেই তাঁর নামে জয়ধ্বনি উঠতে থাকে। মঞ্চে তখন রাহুল সিনহা। বাংলায় বক্তৃতা শুরু করেন মোদি। এখন আর মামলার জন্য এখানকার বাসিন্দাদের কলকাতায় যেতে হবে না। এদিন কলকাতা হাই কোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের উদ্বোধনের পর একথাই বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ময়নাগুড়ি পৌঁছে ফালাকাটা-সলসবাড়ি জাতীয় সড়ক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মোদী। এরপর বলেন, এর ফলে সড়ক
যোগাযোগের সুবিধা পাবেন এখানকার মানুষ। মোদি এই রাজ্য থেকে লোকসভা ভোটের প্রচারের সুর বেঁধে দিয়েছিলেন, আজ তা আরো এগিয়ে নিয়ে গেলেন উত্তরবঙ্গ থেকে।