বেলাল মোমিন, টিডিএন বাংলা, ফরাক্কা: দারিদ্রতাকে পিছনে ফেলে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ফরাক্কা ব্লকে প্রথম দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান দখল করে নিল অর্জুনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন ছাত্র। প্রথম স্থান অধিকার করে মহ: আমান আল মামুন। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৫৯। দ্বিতীয় হয়েছে রনিত পাল। সে পেয়েছে ৬৫১ এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে নাসিম আকতার। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৩১।

আল মামুন তার মামা বাড়ি থেকে পড়াশোনা করে। বাবা রফিকুল ইসলাম গাড়ির ড্রাইভার। বেশিরভাগ সময় তিনি বাইরেই থাকেন। মামুনের মামা নাবিরুদ্দিন শেখ একটি সরকারি হাইস্কুলের শিক্ষক। মামুনের কথায়, মামা এবং নানীর মুখে ভালো রেজাল্ট করে হাসি ফোটাতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে। তারা আমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেন। সে আরো জানায় আগামিতে সে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়।
রনিত পাল হাজার পুরের বাসিন্দা। বাবা একজন কুমোর। মাটির কাপ তৈরি করেই সংসার চালান রামকৃষ্ণ বাবু। রনিত রামকৃষ্ণ বাবুর দুই ছেলের মধ্যে বড়। বিজ্ঞান বিভাগে পড়ে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় রনিত। তার এই স্বপ্ন পূরণে দারিদ্রতা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে পরিবারের সকলের কপালে অনিশ্চয়তার চিহ্ন।

ভবানী পুরের বাসিন্দা হলেন আলি হোসেন। তার ছয় ছেলে। তার মধ্যে তৃতীয় সন্তান নাসিম আক্তার। ৬৩১ নম্বর পেয়ে ব্লকে তৃতীয় স্থান দখল করেছে সে। বাবা একজন টোটো চালক। ছেলের স্বপ্ন একজন বড় ইঞ্জিনিয়ার হওয়া। আলি বাবু জানান, তিনি তার ছেলের স্বপ্ন পূরণের জন্য সব রকম প্রয়াস করবেন।

তিনজনেই অর্জুনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে অগ্রদূত কোচিং সেন্টারের টিউশন পড়ত। ফরাক্কার এই কৃতী তিন ছাত্রকে সংবর্ধনা জানাতে ছুটে যান ফরাক্কা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আনজুম আরা খাতুন। টিডিএন বাংলাকে তিনি বলেন, খুব ভালো লাগছে। আগামীতে এরাই ফারাক্কার মান সম্মান বৃদ্ধি করবে, আমি ফারাক্কাবাসি হিসাবে তাদের সাফল্যে গর্ববোধ করছি। তারা যেন আরো বড় হতে পারে এই আশা রাখছি।