টাকার অভাবে শৌচাগার করতে পারছেন না বহু পরিবার

নিজস্ব প্রতিনিধি, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ : স্বচ্ছ ভারত প্রকল্পে শৌচাগার তৈরির জন্য মুর্শিদাবাদ জেলায় পরিবার পিছু ৩ হাজার ২০০ টাকা লাগছে, যার দরুন সমস্যায় পড়েছে বহু অসহায় মানুষ। টাকার অভাবে হচ্ছে না শৌচাগার , মাঠেই শৌচকর্ম সারতে হচ্ছে তাদের। গ্রামাঞ্চলে উন্মুক্ত শৌচাগারের ব্যবহার বন্ধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার বহুদিন আগে প্রকল্প হাতে নেয়। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকার সেই প্রকল্পের পরিপুর্ন বাস্তবায়নের লক্ষে স্বচ্ছ ভারত অভিযান প্রকল্প শুরু করে। এই প্রকল্পে দেশ জুড়ে উন্মুক্ত শৌচাগারের বদলে পরিবার পিছু পাকা শৌচাগার তৈরির ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সরকার এই উদ্যোগ নেওয়ার পরে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় শৌচাগার তৈরির ব্যবস্থা করা হয়। মুর্শিদাবাদ জেলায় পরিবার পিছু ৩ হাজার ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। যদিও কী কারণে নেওয়া তা জানতে চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলাও দায়ের হয়েছে।বিপদে পড়েছে দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারী মানুষেরা। তাদের ওই টাকা দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় পায়খানা পাচ্ছেন না। যেতে হচ্ছে মাঠে। সামশেরগঞ্জের চাচন্ড গ্রামের লক্ষীমন বেওয়া বলেন,” আমি ৩২০০ টাকা কোথায় পাবো, আমার ছেলে, স্বামী কেউ নেই, কোনো রকমে সংসার চলে,পায়খানা নেই, কোথায় পায়খানা করতে যাবো ? , মেম্বার, প্রধান কে বলেও কোনো কাজ হয় নি” ওই গ্রামেরই অসহায় মেয়ে সেতারা বিবিরও একই অভিযোগ। এ বিষয়ে সামশেরগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত বিডিও আবু তোয়েব মন্ডলের কাছে এই প্রতিবেদক সরাসরি গিয়ে বিষয়টি উত্থাপন করলে তিনি বলেন, “যদি ওই মহিলাটির পায়খানা তৈরি করার মতো ইট থাকে, তাহলে আমরা কোনোরকমে বাকি খরচ হিসাবে ২০০ টাকা নিয়ে করে দিতে পারি, তাছাড়া আমাদের আর কিছু করার নেই ” মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সদস্য তথা প্রাক্তন সহ সভাধীপতি ওবাইদুর রহমান বলেন, “এরকম যদি কোনো অসহায় পরিবার থাকে তাহলে তা পঞ্চায়েত কে জানাতে হবে, পঞ্চায়েত বিডিও কে লিখিত জানাবে। বিডিও ইচ্ছা করলেই পায়খানার ব্যবস্থা করতে পারে। ” চাচন্ড পঞ্চায়েত প্রধান কে এ নিয়ে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

এখন প্রশ্ন উঠছে লক্ষীমন বেওয়া, সেতারা বিবির মতো অসহায় মহিলাদের কি টাকার অভাবে পায়খানা হবে না? তাদের কি মাঠেই পায়খানা করতে হবে? যদি তাই হয় তাহলে মোদীর স্বচ্ছ ভারত অভিযান, মমতার নির্মল বাংলার কতটা সফলতা পাবে সেটাই দেখার ?