জামিতুল ইসলাম,টিডিএন বাংলা,কলকাতা : ফের নাজিব ইস্যুতে আন্দোলনে ছাত্র সংগঠন এসআইও।শুক্রবার রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় গণস্বাক্ষর করে বিকেলে কেন্দ্রীয় সভাপতির উপস্থিতিতে কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে সংগঠনটি।
দিল্লি জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নিখোঁজ নাজিব আহমেদকে খুঁজে বের করতে পারেনি কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশ। পক্ষান্তরে, নিজেদের অসহয়তা ঢাকতে নাজিবের বাড়ির লোকেদের হেনস্তা ও তল্লাশি চালায়। আর, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের আদিবাসী শ্রেণীর ছাত্র সুশীল মান্ডীকে ‘অপবাদ’ দিয়ে মানসিক হেনস্তার মাধ্যমে যেভাবে অত্যাচার করা হয়ে, তার ন্যক্কার জনক বলে অভিহিত করেছেন এসআইও সর্বভারতীয় সভাপতি নাহাস এ.এইচ। আজ, কলকাতা প্রেস ক্লাবে তিনি বলেন, ‘সভ্য সমাজে এধরণের ঘটনাকে একেবারে মেনে নেওয়া যায় না। যে ‘ছেলেহারা’ পরিবার মানসিক ভাবে ভেঙে পরেছেন ঘরের ছেলে ফিরে না পেয়ে, তাঁদেরকে সান্ত্বনার পরিবর্তে পুলিশ-প্রশাসন কিভাবে হেনস্তা করার কথা ভাবতে পারে !’।
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সভাপতি ওসমান গণি বলেন, ‘রোহিত ভেমুলা, নাজিব, সুশীল মান্ডী কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটা আসলে সামাজিক ব্যাধিরই বহিঃপ্রকাশ। জাতপাতের ভিত্তিতে সমাজ গড়ার চেষ্টা হচ্ছে। তাই আমারা এই ঘটনার প্রতিবাদে, ন্যাশনাল মাইনোরিটি কমিশনে আড়াই কোটি স্বাক্ষর প্রেরণ করেছি।’
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সম্পাদক ইমাম হোসেন বলেন, ‘কালকের রোহিত ভেমুলার ইনিস্টিটিউশনাল মার্ডার, হয়েছে,আর আজ নাজিব, সুশীল মান্ডী নিখোঁজ রহস্য ! কোন সমাজে বাস করছি তা আমাকে ভাবিয়ে তোলে। শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষদের অবশ্যই ভাবতে হবে, কিভাবে রক্ষা করবেন আগামীর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। যেভাবে গেরুয়া শিবির ও অতিবামেদের হাতে খতম হচ্ছে ভারতের সম্পদ, তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’
কিছুদিন আগে ছেলেকে খুঁজে দেওয়ার দাবি জানাতে গিয়ে মোদী সরকারের পুলিশের হাতে নিগৃহীত হয়েছিলেন নাজিবের মা ফাতিমা বিবি। সেদিন বর্বরতার দৃস্টান্ত পেশ করে নাজিবের মাকে নিয়ে যাওয়া হয় মন্দির মার্গ থানায়। তাঁর সাথে দুর্ব্যবহার করা হয়। টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় পুলিশ ভ্যানে। যাঁর ছেলের খোঁজ নেই, সেই মায়ের উপর বর্বরতা চালাতেও বিবেকে বাঁধেনি মোদী প্রশাসনের। সেইসাথে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে সুশীল মান্ডীর দাদা হারাধন মান্ডী হাজির থাকার কথা থাকলেও তিনি ছিলেন না। তবে হায়দ্রাবাদ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মহম্মদ নুরুজ্জামান, এসাইওর প্রাক্তন পরামর্শ পরিষদ সদস্য সাদাব মাসুম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।