জামিতুল ইসলাম,টিডিএন বাংলা, কলকাতা: দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে দলিত ও সংখ্যালঘু নির্যাতন।২০১৫ সালে ৪৬ হাজার দলিত নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে দেশে।এরই মধ্যে রোহিত,নাজিব এসেছে।মাঝে অনেক ঘটনার সাক্ষী থেকেছে দেশ।সংখ্যায় বেশি হলেও দলিত ও সংখ্যালঘুরা আজ শোষিত, অত্যাচারিত।তাই অন্য রাজ্যের মত এই রাজ্যে রোহিত থেকে নাজিবঃ স্বাভিমান যাত্রা শুরু হয়েছে।মঙ্গলবার শিয়ালদা থেকে কলেজ স্কোয়ার পর্যন্ত মিছিল করে দলিত বহুজন সলিডারিটি মুভমেন্ট,স্টুডেন্ট ইসলামীক অর্গানাইজেশন অফ ইন্ডিয়া, র‍্যাডিক‍্যাল, আদিবাসী ছাত্র ও যুব সমাজ, জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি ফর সোশ্যাল জাস্টিস এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক সংগঠন।

নেতৃত্ব দেন সুশীল মান্ডি।যাদবপুরের সাঁওতাল এই ছাত্র টিডিএন বাংলাকে বলেছিলেন,”এবার লড়াই রোহিত ও নাজিবের জন্য”।সেই কথা রাখলেন।পথে নেমে আন্দোলন করলেন।

সুশীলের দাবি,বৈদিক যুগে মানুষকে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রীয়, বৈশ্য, শুদ্র এই চার বর্ণে বিভক্ত করা হয়েছিল ৷ উচ্চবর্ণের মানুষেরা নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নিম্নবর্ণের মানুষদের ওপর কী অত্যাচার চালাত সেটা রামায়ণ মহাভারত থেকে শুরু করে বিভিন্ন শাস্ত্রে লিপিবদ্ধ আছে, অর্থনৈতিক সামাজিক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক  সব ক্ষেত্রেই নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখার জন্য নিম্নবর্ণের মানুষদের কোনো অধিকার দেওয়া হতো না ৷ জমিজমা,অন্যান্য সম্পত্তি এমনকি নারীরা তাদের ভোগবিলাসের সামগ্রী হয়ে উঠেছিল ৷ ব্রাহ্মণ্যবাদী সামন্ততান্ত্রিক সংস্কৃতি এখনও বর্তমান আছে যার জন্য আখলাখ,চুনি কোটাল মরতে হয় ৷ প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে হত্যা করা হয় রোহিত ভেমুলা,কৃশ রজনিদের ৷ গুম করা হয় নাজিব আহমেদের মতো নিরিহ মুসলিম ছাত্রকে ৷ সাম্প্রদায়িক রাজনীতির শিকার হয়ে আজ প্রায় পাঁচ মাস ধরে দিল্লীর জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাজিবের মাকে অশ্রু বিসর্জন করতে হয় নিখোঁজ সন্তানের জন্য।”দেশের সর্বত্র যে অব্যবস্থা চলছে তাও জানান সুশীল।লিখিত একটি হ্যান্ডবিল বিতরণ করা হয়।তাতে লেখা আছে,”কাশ্মীরের শতশত মা, বোন ও স্ত্রীরা এখনও খুঁজে বেড়ায় তাঁদের সন্তানদের,দাদা ভাইদের,স্বামীদের ৷ ভয়ংকর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস আর বুলেটের শব্দে চাপা পড়ে যায় তাঁদের কান্না ৷ এ কেমন গণতান্ত্রিক দেশে বাস করি আমরা যেখানে স্বাধীনতার কথা বললে দেশদ্রোহী হতে হয়? মানুষের অধিকারের কথা বললে রাষ্ট্রীয় বাহিনী এবং দলীয় গুন্ডাদের দ্বারা আক্রান্ত হতে হয়?এখনও দলিত, আদিবাসী ও সংখ্যালঘু মুসলমানদের নানান হেনস্তার স্বীকার হতে হয়।”
আরও বলা হয়,”সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করবে এই রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্র নেতারা ৷ আপনার আমার কোনো কিছু বলার বা করার কোনো অধিকার নেই ৷ দেশের জনগণ শোষিত হবে, নির্যাতিত হবে, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-প্রাকৃতিক সম্পদ জল-জঙ্গল-প্রাকৃতিক সম্পদ সব বিক্রি করে দেওয়া হবে আর এসবের বিরোধীতা করলেই আপনি হয়ে যাবেন দেশদ্রোহী, আপনার জন্য আছে ইউএপিএ আর জেলখানা। আমরা জানি ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী জনগণই দেশের সর্বচ্চ ক্ষমতার অধিকারি অথচ এক ফ্যাসিস্ট কায়দায় সেই জনগণের ওপরই একের পর এক আক্রমণ নামিয়ে আনছে বর্তমান শাসক দল,সমস্ত শিক্ষাক্ষেত্রে পরিকল্পনা মাফিক তৈরি করা হচ্ছে ভয়ভীতির এক পরিবেশ, চলছে প্রাতিষ্ঠানিক সন্ত্রাস ৷ ভারতবর্ষের অসংখ্য ছাত্র যুবক আজ শ্রেণী বৈষম্যের শিকার ৷

সংবিধান স্বীকৃত মানবাধিকারও ভুলুন্ঠিত হচ্ছে বারবার ৷ এই পরিস্থিতি বুঝেই ডঃবি.আর আম্বেদকর বলেছিলেন শিক্ষিত হও, সংগঠিত হও, লড়াই করো ৷ কারন যদি আমরা রাজনৈতিক ভাবে আমাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন না হই তবে এই প্রতারনা ও অত্যাচার চলতেই থাকবে ৷ এবার আর থেমে থাকা নয় ৷ আসুন আমরা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলিত, আদিবাসী, সংখ্যালঘু মুসলিম(৮৫% মানুষ ) এবং গণতান্ত্রিক ব্যক্তিবর্গরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদী আন্দোলন গড়ে তুলি এবং জাতি,বর্ণ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে জনগণের স্বার্থে প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করি।”কিন্তু কেন লড়াই?দলিত নেতা শরদিন্দু উদ্দীপনের জবাব,”১৪ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার সন্তানহারা মা রাধিকা ভেমুলা আজ পথে নেমেছেন ৷

ডাক দিয়েছেন,রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে, জাতি বর্ণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য এক স্বভিমান যাত্রার ৷ তাই আমরাও গেরুয়া হিটলার বাহিনীর অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করতে পারি না ,সহ্য করতে পারিনি জাতিভেদ প্রথার মতো মরণব্যাধীকে ৷ তাই, আসুন আমরাও মানবতা রক্ষার্থে, এক বৃহত্তর গণতান্ত্রিক স্বার্থে সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করে ঐক্যবদ্ধ হই।”এদিনের আন্দোলনের বলিষ্ঠ ভূমিকা নিয়েছিল ইসলামি ছাত্র সংগঠন এসআইও।কলকাতার বিশিষ্ঠ বুদ্ধিজীবী ও চিত্র নির্মাতা সৌমিত্র ঘোষ দস্তিদার,রামিজ রাজা,
অভিষেক মুখার্জি,সুচেতা গোলদার, আব্দুল হামিদ,আব্দুল মাতিন প্রমুখ মিছিলে হাঁটেন।