নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ : আজ চতুর্থ দফার লোকসভা ভোট। এই দফায় রাজ্যের আট কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আটটি কেন্দ্রের সবথেকে নজর কাড়া আসন বহরমপুর। এখানে টানা চারবারের সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরীর সাথে মুল লড়াই একদা তারই শিষ্য তৃণমূল প্রার্থী অপূর্ব সরকার ওরফে ডেভিডের। নামেই অপূর্ব লড়লেও এখানে যেন মূল লড়াই হচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর সাথে অধীর চৌধুরীর। গত দুবছর থেকে এই জেলাই তৃণমূল সাংগঠনিক শক্তিকে শক্তপোক্ত করে নেওয়ায় এবারের ভোটে ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে অধীর চৌধুরীকে। মার্জিন যেই হোক না কেন নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় মরিয়া অধীর।ঠিক অন্যদিকে অধীরকে হারানোও যেন প্রেস্টিজ ফাইটার হয়ে দাঁড়িয়েছে শুভেন্দুর।কে কোন মূল্যে অধীরকে হারানোর লক্ষ নিয়েই বারেবারে মাঠে নেমেছেন তৃণমূলের এই হেভিওয়েট মন্ত্রী।

উল্লেখ্য, এবারের লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুর লোকসভায় কংগ্রেসের প্রার্থী বিদায়ী সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরীর বিরুদ্ধে তৃণমূলের হয়ে ভোটে লড়ছেন একদা অধীর ঘনিষ্ঠ অপূর্ব সরকার। অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী করেছে কৃষ্ণ জোয়ারদার আর্যকে। বামেরা এখানে অধীর চৌধুরী কে সমর্থনের ঘোষণা দিলেও আরএসপি ইতিমধ্যেই সেখানে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রে প্রচারে ঝড় তুলেছেন তৃণমূল। রাজ্যের অন্যতম নজর কাড়া কেন্দ্র বহরমপুরে ফের আরেকবার জয়ী হতে তৎপর অধীর চৌধুরী। যদিও তার হয়ে প্রচারে রাজ্য কিংবা কেন্দ্রের কোনো নেতারদেখা পাওয়া যায়নি এখানে।অন্যদিকে অধীর চৌধুরী কে হারানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নেমেছে তৃণমূল।অপূর্ব সরকারের সমর্থনে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিনটি জনসভা করেছেন। শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে ফিরহাদ হাকিম কিংবা অভিনেতাদের নিয়ে এসেছেন অপূর্ব সরকার। মালদার বিদায়ী সাংসদ মৌসুম বেনজির নুরও প্রচারে এসেছেন বহরমপুরে। ইমাম মোয়াজ্জিন দের নিয়েও জনসভা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। সর্বপরী যে কোনো মূল্যে এই সিটে জয়ী হতে মরিয়া তৃণমূল। এই কেন্দ্রই যেন তৃণমূলের প্রেস্টিজ ফাইটার। বহরমপুর কেন্দ্রে বিজেপি তেমন লড়াই দিতে না পারলেও সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে নিয়ে এসে বহরমপুরে জনসভা করে নিজের পালে হাওয়া দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণ জোয়ারদার আর্য।

অধীর চৌধুরী না অপূর্ব সরকার? আজই রায় দেবে জনতা। তবে শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে শিকে ছিঁড়বে বোঝা যাবে ২৩ শে মে।