নিজস্ব সংবাদদাতা,টিডিএন বাংলা,ফুরফুরা: ফুরফুরা দরবার শরীফের ঐতিহাসিক ঈসালে সওয়াবের প্রথম দিন ত্বহার সাথে থেকে মুসলিমদের জল ও বিস্কুট বিতরণ করলেন সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী।সেই সাথে ফুরফুরার উন্নয়ন নিয়ে তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনা করলেন ত্বহা সিদ্দিকী।
প্রতি বছরের মত এবারেও রবিবার ধর্ম উৎসব শুরু হয়েছে ফুরফুরাতে।ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে মুসলিমরা এসেছেন বলে জানা গেছে।এই বিপুল সংখ্যক মুসলিমদের মন পেতে ফুরফুরায় আসেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।এতদিন তৃণমূলের লোকেরাই বেশি আসতেন।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সাথে ত্বহা সিদ্দিকী ও অন্যান্য পীরদের বেশ ভালো সম্পর্ক ছিল।কিন্তু বিধান সভা ভোটের পর তৃণমূল বিরোধীতায় সুর ছড়াচ্ছেন ত্বহা সিদ্দিকী,কাসেম সিদ্দিকী ও তামিম সিদ্দিকী।আর এই ‘রাজনৈতিক সুযোগটিকে’ কাজে লাগাতে সিপিআইএম চেষ্টা চালাচ্ছে।এদিন সুজন চক্রবর্তী ত্বহা সিদ্দিকীর সাথে একান্তে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন।ভক্তদের সামনে কমরেড ও পীরজাদা এক সাথে হাসাহাসি করেন।খেতে খেতে রাজনৈতিক গল্প হয়।ত্বহা সিদ্দিকী ও সুজন চক্রবর্তী এক সাথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফুরফুরার উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন।ত্বহার অভিযোগ, বাম আমলে কোনও ধর্মের লোকদের টাকা দিতনা।ফুরফুরাকেউ দেয়নি।এখানে উন্নয়নও হয়নি।কিন্তু বর্তমান তৃণমূলের আমলে গঙ্গা সাগর মেলায় টাকা দেওয়া হয়,সব রকম সহযোগিতা করা হয় কিন্তু ফুরফুরায় করা হয়না।অথচ ঈসালে সওয়াবে তিরিশ লক্ষ লোকের সমাগম হলেও সরকার উদাসীন।হাসপাতালে ঔষধ নেই,পুলিশের ব্যবস্থা সেই রকম নেই।আমাদের লোকেরাই সব করছে।”সুজন চক্রবর্তী পীরজাদার অভিযোগের সাথে এক মত হয়ে বলেন, পীর সাহেবরা যা বলছেন সেটা ঠিক বলেই বলছেন।বাম আমলের উন্নয়ন নিয়ে উনারা যা বলছেন সেটার বিরোধীতাও করছিনা।”কিন্তু ধর্মীয় এই উৎসবে সিপিআইএম নেতা কেন? সুজন চক্রবর্তীর জবাব,”আমি প্রতিবার আসি।ফুরফুরাকে ভালোবাসি বলেই এবার প্রথম দিন এলাম।”
এদিন বিকেলে ফুরফুরায় যান ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম।ভাঙড় বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,”আমি মুসলিম।এখানে ধর্মীয় কারণে এসেছি।রাজনীতি নিয়ে কিছু বলবো না।”
এদিকে বিভিন্ন পীর সাহেবরা জানিয়েছেন এই তিনদিন বিভিন্ন রাজনৈতিক লোকেরা দুআ নিতে আসবেন।