কৌশিক সালুই, টিডিএন বাংলা, বীরভূম : এখনো খোঁজ নেই লাভপুরের অপহৃত যুবতির। বারো ঘন্টার পরেও কোনো খোঁজ দিতে পারে নি পুলিস। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লাভপুরের ক্ষোভ। মানুষ রাতভর রয়েছেন রাস্তায়। বিক্ষোভের পারদ চড়ছেই। অঘোষিত বন্ধের পরিস্থিতি লাভপুরে। দোকানপাট, যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আইন শাসনের নগ্ন চেহারা আরো একবার বেআব্রু করেছে এই ঘটনা।

অপহৃত যুবতির বাবা সুপ্রভাত বটব্যাল অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তৃণমূলী দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধেই। বলেছে, আমাকে মারতে এসে না পেয়ে আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে গিয়েছে। হাউ হাউ করে কাঁদছেন বাবা, মা, কাকা, কাকিমা। চূড়ান্ত ক্ষোভ সঙ্গে দুশ্চিন্তা ছড়িয়েছে লাভপুর জুড়ে।

লাভপুরের অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক সুপ্রভাত বটব্যলের বাড়িতে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাবেলায় পিস্তল হাতে চড়াও হয় কয়েকজন দুষ্কৃতি। অপহরন করে নিয়ে যায় তার তেইশ বছর বয়সী মেয়েকে। ঘটনায় স্তম্ভিত লাভপুর। প্রতিবাদে পথে নামে মানুষ। অবরোধ, বিক্ষোভ চলছে উত্তালে। ঘটনার জন্য তারা অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে। এখনও পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি মেয়েটির।

পুলিসকে ঘিরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মানূষ। সুপ্রভাত বটব্যাল ২০১১ সালে সিপিআইএম ছেড়ে তৃণমূল নেতা মণিরুল ইসলামের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন। কিন্তু ইদানীং দলের অন্দরে কিছু গন্ডগোল হওয়ায় কয়েকমাস আগে তিনি নাম লিখিয়েছিলেন বিজেপি শিবিরে। তারপর থেকে তৃণমূলের সাথে তার বিবাদ চলছে বলে জানা গেছে। এলাকার মানুষের দাবি, তৃণমূল প্রতিহিংসা থেকেই এদিনের জঘন্য কান্ডটি ঘটিয়েছেন।

এমএ, বিএড, ডিএলএড করা মেধাবি ঘরকুনো মেয়েটিকে এমন দু:সাহসিক অপহরনে শিউড়ে উঠেছেন সকলে। কোন যুগে বসবাস করছি? প্রশ্ন এলাকাবাসীর। এলাকায় সাংবাদিকদের ঢুকতেও বাধা দিচ্ছেন উত্তেজিত জনতা। দু একজন সাংবাদিককে হেনস্থা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।