টিডিএন বাংলা ডেস্ক: মিড ডে মিলে শুধু মাত্র নুনভাত খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছিল চুঁচুড়া বালিকা বানীমন্দির স্কুলে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে স্কুল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন বিজেপি নেত্রী তথা সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। এর প‍র তিনি ক্ষোভে ফেটে পড়েন। রাজ‍্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় মিড ডে মিল কান্ডে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে তড়িঘড়ি ব‍্যবস্থা গ্ৰহণ করল জেলা শাষক। সাসপেন্ড করা হল ওই স্কুলের দুই শিক্ষিকাকে। প্রাক্তন টিআইসি শমিতা কুশারী এবং বর্তমান টিআইসি পূর্বা মুখার্জীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানান হুগলি জেলা শাসক ওয়াই রত্নাকর রাও। এই ঘটনার জেরে হুগলি জেলার এক হাজার স্কুলে মিড-ডে মিলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে জেলা প্রশাসন।

২৫ হাজার টাকার ডিম কেনা হয়েছে, কিন্তু ছাত্রীরা পায়নি একটাও। ২৫৬ বস্তা চালের কোনও হদিশ নেই। গত কয়েক মাস ধরে কখনও ফেনা-ভাত, কখনও আলু-সিদ্ধ ভাত খেতে হচ্ছে ছাত্রীদের। ডিআই থেকে ডিএম সর্বত্র জানানো হলেও কোনও সুরাহা হয়নি। মিড-ডে মিল নিয়ে এমনই দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে হুগলির চুঁচুড়ার বালিকা বাণীমন্দির স্কুলে। দুর্নীতির এই অভিযোগ পেয়েই সোমবার সোজা স্কুলে এসে হাজির হন স্থানীয় সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়।

কিন্তু কেন এই পরিস্থিতি? খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায়, স্কুলে কোনও প্রধান শিক্ষিকা বা টিচার-ইন-চার্জ নেই। এই অব্যবস্থার জন্য অভিযোগের আঙুল উঠেছে স্কুল পরিচালন সমিতির বিরুদ্ধে। যদিও পরিচালন সমিতির চেয়ারম্যান গৌরীকান্ত মুখোপাধ্যায় দায় চাপিয়েছেন, স্কুলেরই চার শিক্ষিকার উপর। তিনি বলেন, ৪ জন শিক্ষিকার জন্য মিড-ডে মিলে অচলাবস্থা হয়েছে। পরিচালন সমিতির ঠিক করে দেওয়া টিআইসিকে অন্য শিক্ষিকারা মানছেন না। এর ফলে সই করার অথরিটি না থাকায় এই অবস্থা। স্কুলে টাকা নেই এমন নয়। কিন্তু কেউ কোনও দায়িত্ব নিতে চাইছেন না। গোটাটাই অন্তর্ঘাত বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় স্কুলে এসে হুঁশিয়ারি দেন, “ছাত্রীদের মুখের খাবার যারা কেড়ে নিয়েছে, তাদের রেয়াত করা হবে না।”