নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, ফুরফুরা শরীফ: স্বীকৃতিহীন আন-এডেড মাদ্রাসা অনুমোদনের দাবীতে দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের বিভিন্ন বিভাগে বারবার শরনাপন্ন হলেও কোন সাড়া না মেলায় অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল র্ল বোর্ডের সদস্য ও ফুরফুরা শরীফ মোজাদ্দেদীয়া অনাথ ফাউন্ডেশনের কর্নধর পীরজ্বাদা ত্বহা সিদ্দিকির দারস্থ হয় ওয়েষ্টবেঙ্গল আন-এডেড মাদ্রাসা টিচার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের বিভিন্ন জেলার শিক্ষকরা।

এদিন আন-এডেড মাদ্রাসাগুলির শিক্ষকরা মাদ্রাসাগুলির দুরাবস্থার কথা জানিয়ে পীরজ্বাদা ত্বহা সিদ্দিকীর হস্তক্ষেপ ও আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচির আর্জি জানান এস্যোসিয়েশনের শিক্ষকরা। তিনি জানান সংঘবদ্ধ হয়ে লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়, সব সময় পাশে আছি, ভিক্ষায় দাবী পূরন হয় না, কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জন করে নিতে হবে। আপনারা তৈরি থাকুন, ঈদের পরই কর্মসূচী ঘোষিত হবে। প্রতিশ্রুতি সত্বেও মুখ্যমন্ত্রী আন-এডেড মাদ্রাসার অনুমোদন নিয়ে চুপ কেন? মাদ্রাসাগুলির পরিকাঠামো থাকলেও অনুমোদনের ফাইল কেন ছাড়া হচ্ছে না? প্রশ্ন তোলেন তিনি।

উল্লেখ্য ২০১১ সালে মুখ্যমুন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ক্ষমতায় আসার পরই রাজ্যের ১০ হাজার বেসরকারী মাদ্রাসাকে সরকারী অনুমোদন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সেই মোতাবেক কয়েক হাজার মাদ্রাসার পরিচালন কমিটিগুলি অনুমোদনের জন্য যথাযথ পরিকাঠামো গড়ে তুলে মাদ্রাসা পর্ষদে আবেদন করে।

এদিকে রাজ্যের প্রতিটি জেলার জেলা পরিদর্শকের নেতৃত্বে ডিএলআই টিম তৈরি হয়ে প্রতিটি মাদ্রাসা পরিদর্শন করে তার পরিকাঠামো ও অনুমোদন পাওয়ার যোগ্য কিনা খতিয়ে দেখে। পরিদর্শনকৃত শতশত মাদ্রাসা অনুমোদনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে রিকমেন্ড করে জেলাগুলির ডিএলআই টিম। কিন্তু বিভাগীয় দফতরের কর্মীদের সদর্থক ভূমিকা না থাকায় মাত্র ২৩৪ টি মাদ্রাসা পেয়েছে বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে মাদ্রাসাগুলি পূর্নরায় পরিদর্শন হয়ে প্রায় ৬০০ টির ও বেশি ফাইল নবান্নে দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনের অপেক্ষায় আটকে রয়েছে। সম্প্রতি কালিঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে দারস্থ হলেও কোন হেলদোল নেই বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট এস্যোসিয়েশনের।

এস্যোসিয়েশনের রাজ্য সভাপতি হেদায়েতুল্লাহ খান টিডিএন বাংলাকে জানান, ‘ বিভাগীয় দফতরে বারংবার স্মারকলিপি ডেপুটেশন দিয়েও কোন সাড়া না পাওয়ায় আমরা সরাসরি দফতরের মন্ত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নিকট মাদ্রাসাগুলির দূরাবস্থার বার্তা নিয়ে আমাদের ন্যায্য দাবীসমূহ পেশ করেছি। পরিকাঠামো থাকা সত্বেও রাজ্য সরকার মাদ্রাসাগুলির অনুমোদনের ফাইল আর কতদিন আটকে রাখবে? আমাদের দেওয়ালে পীঠ ঠেকে গেছে, গনতান্ত্রিক ও আইনি পথে জোরদার লড়াইয়ে নামছি।

এস্যোসিয়েশনের রাজ্য সম্পাদক সেখ সামসুল হুদা বলেন, ইদের পরই আমরা কালিঘাট অভিযান করে মুখ্যমন্ত্রীর দারস্থ হচ্ছি, এতেও সাড়া না পেলে অনশন কর্মসূচীতে যেতে বাধ্য হব। তিনি বলেন লটারীর লাট নয়, আমরা নির্দিষ্ট সংখ্যক সংঘবদ্ধ মাদ্রাসাগুলির অনুমোদন চাই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এস্যোশিয়েশনের শিক্ষক-শিক্ষিকারা দীর্ঘদিন লড়াই করলেও রাজ্য সরকার এখনোও পর্যন্ত ইতিবাচক বার্তা না দেওয়ায় সংখ্যালঘু মহলে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে কি সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্কের দিকে তাকিয়ে ১০ হাজার মাদ্রাসা অনুমোদনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সরকার? মাদ্রাসাগুলির অনুমোদন কি সরকার চায় না? প্রশ্ন উঠছে বুদ্ধিজীবী মহলে।