কৌশিক সালুই, টিডিএন বাংলা, বীরভূম: মোবাইল, ভিডিও গেম, কার্টুন ইত্যাদি কুপ্রভাব ফেলছে শিশুমনে। ফলে তারা অমনোযোগী হচ্ছে পড়াশোনায়, শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সমস্যা হচ্ছে ওই নেশার ফলে। সেই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হল বীরভূম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ। বাংলার বিভিন্ন ট্রাডিশনাল খেলা এবার থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঠন পাঠনের সঙ্গে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

রাজ্যের মধ্যে প্রথম জেলা হিসেবে ওই কর্মসূচি শুরু হয়েছে বীরভূমে। সোমবার সিউড়িতে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য। উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান ড: প্রলয় নায়েক, বিশ্বভারতীর অধ্যাপক ড: সমীরণ মণ্ডল, ড: কল্লোল চ্যাটার্জী সহ বিশিষ্টজনেরা।

ছু কিতকিত, পিট্টু, লাফদড়ি, গুঠিং খেলা, কানামাছি খস-খস, মোরগ লড়াই, নুন দাড়ি খেটে প্রভৃতি গ্রামবাংলার ছেলে বেলার খেলা হারিয়ে গিয়েছে। সেই খেলা ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হল প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ। সমস্ত প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনার অন্য সমস্ত বিষয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন খেলাধুলো ক্লাস হবে । অর্থাৎ ঐ সমস্ত খেলাধুলা খুদে পড়ুয়ারা স্কুলে খেলবে। বর্তমান সমাজের ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে।

আর তার জায়গা নিয়েছে মোবাইল ভিডিও গেম কার্টুন সহ অন্যান্য বিভিন্ন নেশা। ফলে পড়াশোনার যেমন ক্ষতি হচ্ছে পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সমস্যা হচ্ছে শিশুদের। সেই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হয়ে গ্রাম বাংলার ওই ট্রাডিশনাল খেলাগুলি শুরু করেছে বীরভূম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ। সোমবার সিউড়ির প্রাথমিক শিক্ষা সংসদে জেলার ৩২ টি সার্কেলের তিন জন করে শিক্ষক এবং দুজন করে শিক্ষিকার ওই বিষয়ে প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।
তিন দিনের ওই প্রশিক্ষণ শিবির হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য বলেন,”ট্রাডিশনাল বাংলার খেলা ফিরিয়ে আনতে বীরভূম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ উদ্যোগ হয়েছে। যা বাংলার সমস্ত প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি ওই খেলা নিয়মিত হবে বাধ্যতামূলকভাবে। আমরা মনে করি তার ফলে পড়ুয়াদের শিক্ষা স্বাস্থ্য ও মনের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটবে এবং সুস্থ সমাজ হবে। তার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ক্রীড়া নীতি আনা হয়েছে। প্রাথমিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার রাজ্য স্তরের যারা সাফল্য পেয়েছে। তাদের জন্য আবাসিক স্কুল শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। তাদের সংশ্লিষ্ট খেলায় ট্রেনিং দেওয়া হবে নিয়মিত সেখানে। এমনকি তাদেরকে স্বাবলম্বী করা পর্যন্ত দায়িত্ব থাকবে সরকারের”।