টিডিএন বাংলা ডেস্ক: রবিবার শেষ হয়েছে সপ্তম দফা নির্বাচন তথা ২০১৯ লোকসভা নির্বাচন। ভোটের দিন থেকে উত্তপ্ত ভাট পাড়া। সোমবারও তার একই ছবি সেখানে। ভোট পরবর্তী হিংসা অব‍্যাহত ভাট পাড়ার। বোমাবাজি ও গুলির শব্দে অশান্ত হয়ে রয়েছে ভাটপাড়া। কাঁকিনাড়া-সহ একাধিক এলাকায়। রবিবার সারারাত এবং সোমবারও সেখানে হয় বোমাবাজি। তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি, দুই দলের বিরুদ্ধেই উঠেছে বোমাবাজি ও গুলি চালানোর অভিযোগ। এলাকায় মোতায়েন রয়েছে ব়্যাফ।

রবিবার ভোট পর্ব চলাকালীন কাঁটাপুকুর এলাকায় মুড়ি-মুড়কির মত বোমাবাজি চলে। তৃণমূল ও বিজেপি দুপক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বহিরাগতদের এলাকায় নিয়ে এসে সন্ত্রাস করার অভিযোগ তোলে। রবিবার রাতে মেঘনা মোড়ে অর্জুন সিংয়ের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমাবাজি ও গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে সেই অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, ওইদিন রাতে চালতা রোড এলাকায় দুষ্কৃতীরা ব্যাপক বোমাবাজি ও সাধারণ মানুষের বাড়ি ভাঙচুর করেছে দুষ্কৃতীরা। এমনকী ওই দুষ্কৃতীরা এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুনও ধরিয়ে দেয়।

এদিকে ভাটপাড়ার আর্যসমাজ এলাকা ফের রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। বিজেপি ও তৃণমূল, দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক বোমাবাজি চলছে। প্রাণ বাঁচাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। ব়্যাফ ও কমব্যাট ফোর্সের জওয়ান-সহ এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। মোটের উপর গতকালের উপনির্বাচন ঘিরে এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে ভাটপাড়া এলাকায়। কার্যত বন্ধের চেহারা নিয়েছে গোটা এলাকা। সমস্ত দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছে ব্যাবসায়ীরা। এদিকে ঘোষপাড়া রোডে যানচলাচল পুরোপুরি বন্ধ। এলাকায় মোতায়েন বিশাল পুলিশ বাহিনী। চলছে আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানদের টহল।

সংঘর্ষের জেরে কাঁকিনাড়ার পানপুর মোড় ও জগদ্দলের বাসুদেবপুর মোড়ে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করেন বিজেপি সমর্থকরা। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দারা সোমবার সকালে চালতা রোড সংলগ্ন ঘোষপাড়া রোড অবরোধ করেন। অবরুদ্ধ রেলপথও। ঘটনাস্থলে ভাটপাড়া তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ ও রেল পুলিশ উপস্থিত হয়। সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ পুলিশের আশ্বাসে অবরোধকারীরা অবরোধে তুলে নেন।