গোসাবা ব্লকের সমস্ত দ্বীপবাসীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জলের ক্ষেত্রে ভরসা এখন দূরবর্তী সরকারি গভীর নলকূপগুলি। উপর বৃষ্টি নেই। কাপড় কাঁচা, বাসন ধোয়ার ক্ষেত্রে এঅঞ্চলের মানুষদের একমাত্র ভরসা সেই খাল, নয়ানজুলি বা পুকুর। গরমের শুরুতে সেগুলিও গেছে শুকিয়ে। ভোর থেকেই সরকারি টিউবগুলিতে দেখা যাচ্ছে মহিলাদের লম্বা লাইন। কোথাওবা মাটি থেকে দশ ফুট গভীরে নেমে নিতে হচ্ছে জল। সকাল হতেই ওদের বাড়ির পুরুষরা কেউ যায় লেবারের কাজে কেউবা ব্যবসায়। ফলে সমস্যায় পড়ছেন বাড়ির মহিলারা।
এদিন উনুনে রান্না চাপিয়ে বাড়ি থেকে অনেকটাই দূরে জল নিতে এসেছিলেন তাপসী মল্লিক, গীতা পাল, অর্চনা মণ্ডলরা। ক্ষোভের সুরে তারা বললেন, আশেপাশের পুকুরের জল সব শুকিয়ে গেছে। রান্না, খাওয়া, কাপড় কাঁচা সহ বাড়ির সকলের স্নানের জল এভাবেই দূরের টিউবওয়েল থেকে অনেক লড়াই করে বইতে হচ্ছে। এভাবে কি আর জীবন চলে! রাস্তার ধারের প্রায় হাজার ফুট গভীর নলকূপগুলিতে সারাদিনই লেগে থাকছে লম্বা লাইন। মহিলারা গৃহস্থলীর কাজের ফাঁকে ফাঁকে কলসি-বালতি বয়ে জল ভরছে বাড়ির বড় বড় ড্রামগুলিতে। ওতেই চলবে সারাদিন।
ছোটমোল্লাখালীর গণেশ পাল বলছিলেন,
এবছর ধানের চাষ বাড়ায় স্যালো মেশিনেই সব জল তুলে নিচ্ছে। ফলে নেমে যাচ্ছে জলস্তর। মাস খানেক হল ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে বাড়িতে পাঁচশ ফুট গভীর টিউবওয়েল বসালাম। এখন একদমই জল উঠছেনা। খুব সমস্যায় পড়েছি। পুঁইজালির গৌরাঙ্গ বারুই বলছিলেন,  আমাদের দ্বীপে জল সমস্যা আরো প্রকট। খুব দ্রুত যদি বৃষ্টি না নামে সমস্যা ভয়ানক আকার নেবে।
গোসাবার ডাক্তারি পড়ুয়া মেহেদি হাসান মোল্লা টিডিএন বাংলাকে জানান, আমাদের ব্লকটি মূলত আর্সেনিক প্রবন। পরিশুদ্ধ জলের প্রচন্ড অভাব। সমতল থেকে প্রায় ৮-১০ ফুট নীচে নেমে জল সংগ্রহ করতে হচ্ছে আমাদের। বর্ষার দিনে ঐ কল গুলো  চলে যায় জলের তলায়। একটি গ্রামে একটি মাত্র সরকারি গভীর নলকূপ আছে। সেখানেও জ্বলযুদ্ধে  দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয় শিশু থেকে বয়স্কদের। আমরা চাই সরকারি ভাবে গ্রাম পিছু গভীর নলকূপের সংখ্যা আরো বাড়ানো হোক।
গোসাবার কচুখালী, বিপ্রদাসপুর, সোনাগাঁও, দুলকি, বালি, তারানগর, কুমিরমারী, কালিদাসপুর, হেতালবাড়ি, গোবিন্দপুর সব ক্ষেত্রে চিত্রটা প্রায় একই। অল্প গভীরতার টিউবওয়েল গুলির জল মুখে দেবার উপায় নেই। কম করে পাঁচশ ফুট গভীরতার নিচের জল একেবারেই পানের অনুপযুক্ত। কোথাওবা হাজার ফুটের নিচেও মেলে না পানের উপযুক্ত জল। পঁয়ত্রিশ-চল্লিশ হাজার টাকা খরচ করে বাড়িতে গভীর নলকূপ বসানোর সাধ্য আর ক’জনেরই আছে প্রত্যন্ত গ্রামবাসীদের!