নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : আগামী লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা করল ওয়েলফেয়ার পার্টি অফ ইন্ডিয়া। শুক্রবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রথম দফায় ছয় জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হতে পারেন খোদা বক্স। তিনি গতবারও ওই কেন্দ্রের প্রার্থী ছিলেন। কুচবিহারে ধনঞ্জয় বর্মণ, মালদায় উত্তরে নুরুল ইসলাম মাজিদি, বসিরহাটে আইনজীবী রফিকুল ইসলামকে,ডায়মন্ডহারবারে মন্টুরাম হালদারকে প্রার্থী করা হয়েছে। জঙ্গিপুর আসনে লড়াই করবেন দলটির সর্ব ভারতীয় সভাপতি ড: কাসেম রসূল ইলিয়াস।

পরবর্তী সময়ে কৃষ্ণণগর, রানাঘাট, বনগাঁ, যাদবপুর, কাঁথি, আসানসোল, বহরমপুর, আলিপুর দুয়ার, ব্যারাকপুর, মথুরাপুর,কলকাতা উত্তর, হাওড়া, শ্রীরামপুর, তমলুক, ঝাড়গ্রাম, বর্ধমান পূর্ব, বীরভূম, বোলপুর, পুরুলিয়া, আরামবাগ,উলুবেড়িয়া,বারাসত, কলকাতা দক্ষিণ প্রভৃতি জায়গায় প্রার্থী ঘোষণা করতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ওয়েলফেয়ার পার্টি কেরল, গুজরাট, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র ও তেলেঙ্গানাতে প্রার্থী দিচ্ছে। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সর্বভারতীয় সভাপতি ডঃ এস কিউ আর ইলিয়াস, রাজ্য সভাপতি মনসা সেন, সাধারণ সম্পাদক সারওয়ার হাসান প্রমুখ।

পার্টির পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি মনসা সেন বলেন, জঙ্গিপুর থেকে একসময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। সেই জঙ্গিপুরের স্বাধীনতার সত্তর বছর পরেও কোন উন্নতি হয়নি। সেখানের মানুষেরা এখনও দারিদ্রতার সাথে লড়াই করে। তিনি আরও বলেন, অবহেলিত, দরিদ্র, বঞ্চিত মানুষের হয়ে সংসদে কথা বলার জন্য, তদের দাবি আদায়ের জন্য দক্ষ মানুষকে খুবই প্রয়োজন ছিল। আর ওই আসনে একজন উচ্চশিক্ষিত, বিবেকবান মানুষ হিসাবে ওয়েলফেয়ার পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি ডা. এস কিউ আর ইলিয়াসকে জঙ্গিপুরের প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানোর সিদ্ধান্ত দল নিয়েছে। সম্মেলনে উপস্থিত ড: এস কিউ আর ইলিয়াস বলেন, ২০১৯ লোকসভা নির্বাচন সারা ভারতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনই ঠিক করবে দেশ সেকুলার, গণতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাবে নাকি জাতপাতের রাজনীতি করে দেশকে দাবিয়ে রাখা হবে।

তিনি আরও বলেন, এই সময় সকল নিরপেক্ষ দলকেই এক হয়ে দেশের কল্যানে এগিয়ে আসতে হবে। তাঁর মন্তব্য,’বর্তমানে কোন রাজনৈতিক পার্টি জনগনের মূল সমস্যা, ইস্যু গুলো নিয়ে কথা বলছে না, সকলে মানুষের ইমোশনাল ইস্যুকে হাতিয়ার করে এগোতে চাইছে। আজ দারিদ্রতা, অনুন্নয়ন, বেকারত্ব, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং অবশ্যই ভাতৃত্বের ইস্যু নিয়ে কথা বলতে হবে। তিনি পুলওয়ামায় সেনা মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর উচিত ছিল এই ঘটনার পর পদত্যাগ করা। তিনি এ প্রশ্নও তোলেন যে, কেন ইন্টালিজেন্সির সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও কোন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়নি?

Advertisement
mamunschool