টিডিএন বাংলা ডেস্ক: আসন্ন ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় শাষকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে সমস্ত আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করল আসাদুদ্দিন ওয়েসীর দল অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (মিম)।মিমের মুখপাত্র আসিফ ওয়াকার সংবাদমাধ্যমকে সাফ জানিয়েছেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের ২৯৪টি আসনেই প্রার্থী দেবে মিম। তৃণমূল কংগ্রেসকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি গ্রামে আমাদের উপস্থিতি রয়েছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সব আসনেই আমরা প্রার্থী দেব।’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মিম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়েসীর মধ্যে বেনজির বাদানুবাদ চলছে। এহেন পরিস্থিতিতে মিম-এর নয়া ঘোষণায় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘাত যে নয়া মাত্রা পাবে তা বলাই বাহুল্য।

সম্প্রতি, রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসলে তুলোধোনা করে ওয়েসী বলেন, ‘বাংলায় মুসলমানরা সুরক্ষিত নয়। দীর্ঘদিন ধরে তাদের ঠকিয়ে আসছে তৃণমূল। বাংলায় বিজেপি কী করে ৪২টির মধ্যে ১৮টি লোকসভা আসন পেল। সেই জবাব দিন মুখ্যমন্ত্রী।’ মিম প্রধানের এই অভিযোগের পরই তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত সোমবার কোচবিহারের জনসভা থেকে ওয়েসীর বিরুদ্ধে তোপ দেগে মমতা বলেন, রাজনীতি করতে গিয়ে দেখেছি হিন্দুদের মধ্যে উগ্রতা রয়েছে। তবে এখন সংখ্যালঘুদের মধ্যেও উগ্রপন্থার বিষ ঢোকানোর চেষ্টা করছে অনেকে। এরা বিজেপির থেকে টাকা নিয়ে এরাজ্যের অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। হায়দরাবাদ থেকে এরাজ্যে এসে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। সবাইকে বলব এদের বিরুদ্ধে একজোট হন। কোনও ভাবেই কোনও সংখ্যালঘু ভাইবোন যেন ওদের খপ্পরে না পড়েন সেদিকে খেয়াল রাখবেন।’

ভোট বিশ্লেষকেরদের মতে, রাজ্যে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংকে থাবা বসাতে পারে মিম। তুলনায়, বিজেপির হিন্দু ভোট ব্যাংকে কোনও প্রভাব পড়বে না। এছাড়াও, কংগ্রেস ও সিপিএময়েরও সংখ্যালঘু ভোট যথেষ্ট। সব মিলিয়ে মিম আসরে নামলে মুসলিম ভোট ভাগাভাগি হয়ে আখেরে ফায়দা হবে গেরুয়া শিবিরেরই। গোটা চিত্রটি ঝানু রাজনীতিবিদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে স্পষ্ট। তাই যে কোনও পরিস্থিতিতে ওয়েসীকে আটকাতে মরিয়া তৃণমূল সুপ্রিমো।