টিডিএন বাংলা ডেস্ক :  হাজার চেষ্টা করেও রোখা গেল না প্রশ্নপত্র ফাঁসের ধারাবাহিকতা। সপ্তম দিনেও মাধ্যমিকের প্রশ্নপত্র ফাঁস। অনেক চেষ্টা চরিত্র করেও কেন প্রশ্ন ফাঁস আটকানো যাচ্ছে না, তানিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে এটা কি প্রহসন হচ্ছে? কী বলবে মধ্য শিক্ষা পর্ষদ?

লজ্জার সমস্ত রেকর্ড ভেঙে ফেলল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। এ যেন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। সপ্তম দিনেও ফাঁস হয়ে গেল মাধ্যমিকের প্রশ্নপত্র। বুধবার জীবন বিজ্ঞান পরীক্ষা। অন্যদিনের মতোই, পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরতে শুরু করেছে প্রশ্নপত্রের প্রতিলিপি। যদিও এক্ষেত্রে পর্ষদের স্বস্তির খবর, যে প্রশ্নটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে এসেছে সেই প্রশ্নপত্রে এদিনের পরীক্ষা হয়নি। পরীক্ষা হয়েছে অন্য প্রশ্নের সেটে। সে প্রশ্নের সেটগুলি স্ট্যান্ড বাই হিসেবে রাখা হয় সেই সেটগুলির মধ্যে একটি প্রকাশ্যে চলে এসেছে। তাতে কি! শাক দিয়ে কী আর মাছ ঢাকা যায়? কোন যুক্তিতে গাফিলতি ঢাকবে পর্ষদ? কারণ, মাধ্যমিকের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার কোনও প্রশ্নের সেটই প্রকাশ্যে আসার কথা নয়। প্রশ্ন হল তাহলে কি শর্ষের মধ্যেই ভুত? গলদটা কোথায় তা কেন বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে না?

গত মঙ্গলবার শুরু হয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। প্রথম দিনেই ফাঁস হয়ে যায় বাংলা ভাষা বাংলার প্রশ্নপত্র৷ সেদিন পরীক্ষা শুরুর আধ ঘণ্টা পর হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়ে প্রশ্ন। পরের পরীক্ষাগুলিতেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়। ব্যতিক্রম হল না জীবন বিজ্ঞান পরীক্ষার ক্ষেত্রেও। এদিন প্রশ্ন ফাঁস রুখতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।সিআইডি তদন্তের নির্দেশ, বেশ কিছু এলাকায় পরীক্ষাকেন্দ্রের আশেপাশে ইন্টারনেটে নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দেয় প্রশাসন। কিন্তু তাতেও আটকানো গেল না ফাঁস।

এই নিয়ে নানা মহলে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিরক্ত শিক্ষাবিদরা। অনেকে আবার এই নিয়ে মধ্য শিক্ষা পর্ষদের ভূমিকায় উপহাস করছে। ফেসবুকে ঘুরছে সেই সব পোস্ট।

সূত্রের খবর, এই প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় যথেষ্ট চাপে পড়েছেন পর্ষদ সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়৷ পর্ষদ সূত্রে খবর, ২২ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক শেষ হওয়ার পর সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন তিনি৷