নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ :  রাজমিস্ত্রি, বিড়ি শ্রমিক অধ্যুষিত জেলা মুর্শিদাবাদ। এই জেলার অধিকাংশ মানুষই রাজমিস্ত্রি হওয়ার সুবাদে জেলা থেকে রাজ্যের বাইরে কাজে যান। মেয়েরা বিড়ি বাধার কাজে ব্যস্ত। সারাবছর কস্ট করে দিন কাটালেও খোজ থাকে না নেতাদের । পেটের জ্বালায় সংসার ছেড়ে দূরে কাজে চলে হয় তাদের। কিন্তু যেই ভোট এলো তেমনি কদর বেড়ে গেলো বাইরে থাকা শ্রমিক দের। কদর বাড়ে বিড়ি শ্রমিক দেরও। ভোট পাবার আশায় বাইরে থাকা রাজমিস্ত্রি দের বাড়ি নিয়ে আসতে শুরু হয় ব্যপক তোড়জোড়।
         মুর্শিদাবাদের সুতির রেহেনা বিবির স্বামী মানিরুল ইসলাম। সংসার চালানোর দায়ে ও সন্তান দের মুখে হাসি ফুটানোর লক্ষে মাস চারেক আগে কেরালা গিয়েছেন রাজমিস্ত্রির কাজে। সামনে ঈদ। ইনকাম করে নিয়ে এসে ছেলেমেয়ে দের সাথে জমিয়ে ঈদ করতে চায় সে। কিন্তু হঠাত নির্বাচন এর নির্ঘণ্ট প্রকাশ হতেই প্রার্থীরা তার  বাড়ি গিয়ে ফোন নং জোগাড় করে বাড়ি এসে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করছেন। শুধু তাই নয় ভোটের জন্য আসা যাওয়ার সমস্ত খরচ বহন করারও আশ্বাস দিচ্ছেন!  কিন্তু ক্ষুব্ধ স্ত্রী রেহেনা বিবির কথায়, এতদিন বাড়িতে না খেয়ে কস্ট করে জীবন অতিবাহিত করলেও কারো দেখা মেলা যেত না, এখন ভোট এসেছে তাই বারবার আমাদের কাছে এসে পায়ে পড়ছি। আমরা গরিব মানুষ। না খাটলে খেতে পাবো না। ফারাক্কার অর্জুনপুরের বছর চব্বিশের যুবক সফিকুল ইসলামও চেন্নাই গিয়েছেন রাজমিস্ত্রি কাজে। এতদিন কোথায় আছে কেউ খবর না নিলেও এখন বারবার ফোনে বাড়ি  আসার অনুরোধ করছেন নেতারা। একই মত সুতির রেজাউল করিম, সফিকুল ইসলাম, হাসান আলিদের । জঙ্গিপুরের নাবিরুল ইসলাম নামে এক  রাজমিস্ত্রি কাজে গিয়েছেন হুগলী। তিনি ফোনে প্রতিবেদককে জানান, ইতিমধ্যেই দুটো দল থেকে আমার কাছে ফোন এসেছে বাড়ি আসার জন্য। আসা যাওয়ার খরচ দেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত কিছু দেওয়ারও লোভ দেখানো হচ্ছে। সারাবছর কোনোদিন রাস্তায় দেখা হলে কথা না বললেও এখন যেন উপচে পড়া দরদ। ঈদের মুহুর্তে দুটো ইনকাম করে ছেলেমেয়েদের কে খুশি করার জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তীব্র গরমে কাজ করছি।
         শুধু কি রাজমিস্ত্রি?না -শুধু রাজমিস্ত্রি নয়,  বেড়েছে বিড়ি শ্রমিকদেরও কদর। মজুরী বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি নিয়ে গিয়ে বিড়ি শ্রমিকদের পাশে একেবারে বিড়ি বাধা কুলো নিয়ে ধুলা মলিনে বসে ভোটের আবদার করছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। পিছিয়ে পড়া, খেটে খাওয়া  দারিদ্র, অশিক্ষিত এই মানুষগুলোরও ক্ষোভ, আমাদের দিকে পাচ বছরে কেউ তাকিয়ে না দেখলেও এখন সকলের দরদ উপচে পড়ছে।  নাজেরা বিবি, সাবিয়া বিবি, নায়েমা বিবিদের কথায়, অন্য সময় কেউ ফিরে না তাকাক, ভোটের সময় সকলের মোহভঙ্গ হয়।