রেবাউল মন্ডল, টিডিএন বাংলা, জঙ্গিপুর: ঘন বসতিপূর্ণ গ্রাম। আঙ্গুল উঁচিয়ে দেখিয়ে দিলেন জীর্ণ একটি কুঁড়ে। শিশু সন্তান কোলে মহিলা, বললেন, ‘ওই বাড়িটা আমার। বারবারই ভোট আসে। কিন্তু ভোট ফুরোলে কেন নেতারা আমাকে দেখেনা। বড় লোকেরও একটা ভোট গরিবেরও একটি ভোট। কিন্তু কেন কিছু পাইনা? আমি তো গরিব মানুষ।’ কথাগুলি বলতে বলতেই শাড়ির আঁচলে চোখ মুছলেন জঙ্গিপুরের সন্তোষপুরের কদভানু বিবি।

পাশ থেকেই আর একজন বিধবা সাগরা বেওয়া বলে উঠলেন, ‘এসব বলে আর কি হবে! ভোট এলেই তো আমাদের কথা মনে পড়ে। ভোটের সময় নেতারা বলে, ভোট দাও পরে ঘর দেব। ওরা ভোট নিয়ে চলে যায়। তারপর আর খোঁজ কেউ রাখে না।’ সাগরা বেওয়ার ক্ষোভ, ‘এবার আর ভোটই দেব না’।

ভোটে সরগরম সব রাজনৈতিক দল। কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। জঙ্গিপুরের বিভিন্ন গ্রামে শেষ মুহূর্তের প্রচার সরছে সব দল। এদিন সামসেরগঞ্জের গ্রামে ওয়েলফেয়ার পার্টির মিছিল পৌঁছুতেই অলি গলি থেকে ছুটে আসে কচিকাঁচারা। তাদের পিছু পিছু আসে বাড়ির মায়েরাও।

এখানে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল বাম কংগ্রেস তৃণমূল। কিন্তু আজও কদভানু’দের মত মহিলাদের নিজের বাসস্থানের জন্য ডুকরে কাঁদতে হচ্ছে। এখান থেকেই রাষ্ট্রপতি হয়েছেন প্রণব মুখার্জি। তাঁর ছেলে অভিজিৎ মুখার্জিও এখানকার সংসদ। দীর্ঘ বঞ্চনা আর ক্ষোভ নিয়েই বেঁচে আছেন এখানকার মানুষ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নেতারা ইন্দিরা আবাস যোজনার ঘর গুলি যোগ্য প্রাপক গরিবদের না দিয়ে টাকার বিনিময়ে অন্যদের দেওয়া হয়েছে। ফলে বঞ্চিত হচ্ছে কদভানু বিবি, সাগরা বেওয়াদের মত দরিদ্ররা।

ঘন বসতিপূর্ণ এই এলাকায় আজও রয়েছে রাস্তা ঘাটের সমস্যা, বিশুদ্ধ পানীয় জল নেই, শিক্ষা নেই। সকাল হতেই তামাক আর বিড়ির পাতা নিয়ে বসে শিশুরা। সার বেঁধে বাধে বিড়ি। পেট চালাতে ঐ টুকুই যে তাদের সম্বল!