টিডিএন বাংলা ডেস্ক: তিনি কলকাতা প্রাক্তন মহানগরিক। সেই সাথে বিশিষ্ট আইনজীবী। বিভিন্ন ইস্যুতে মুখখুলেছেন বলিষ্ঠভাবে। যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রে বেশ কয়েকটি বড় মুসলিম সংগঠন সিপিআইএম প্রার্থী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যকে সমর্থন দিচ্ছে। তবে সিপিআইএমকে নয়,ব্যাক্তি বিকাশ রঞ্জনকেই এই সমর্থন বলে জানা যাচ্ছে।সূত্রের খবর, এদেশের সুসংগঠিত ক্যাডার ভিত্তিক বৃহত্তর ইসলামী সংগঠন জামায়াতে ইসলামী হিন্দ সিপিআইএমের  প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে। ওই দলটি আরও কিছু জায়গায় বামফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থীকে সমর্থন করেছে। তবে রাজ্যের অন্যান্য জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেসকে সমর্থন করেছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বলছেন, সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে যে দল যেখানে শক্তিশালী তাকে ভোট দেওয়া হচ্ছে।

তবে সেক্ষেত্রে প্রার্থীও গুরুত্বপূর্ণ।’জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন নিয়ে বামফ্রন্ট প্রার্থী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন,’এটা অত্যান্ত খুশির খবর। গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। জামায়াতে ইসলামী হিন্দের মতো সংগঠন যদি গণতন্ত্র রক্ষায় এগিয়ে আসে, ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য কাজ করে সেটা ভালো।’শুধু জামায়াতে ইসলামী নয়, আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম সংগঠন বিকাশ বাবুকে সমর্থন দিচ্ছে।এদিকে মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সম্পাদক মুফতি আব্দুস সালাম বলেন,’জমিয়ত নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করেনা। তবে সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে ভোট দেবেন কর্মীরা।’

ফুরফুরা শরীফের এক জনপ্রিয় পীরজাদাও বিকাশ বাবুকে সমর্থন দিয়েছেন। মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়নের প্রাক্তন নেতা হাফেজ আজিজুদ্দিন বলছেন, যাদবপুরে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকেই সমর্থন।কিন্তু মুসলিম ভোট কি তৃণমূলের দিক থেকে সরে যাচ্ছে? অধ্যাপক আব্দুল মতিন বলেন,’প্রায় বলা হয় , মুসলিম ভোট তৃণমূলের দিকে আছে। কিন্তু বাংলার বিভিন্ন কেন্দ্রে খোঁজ নিলে দেখা যাবে মুসলিমরা সব দল -ই করে। সিপিআইএমের ঘোর দুর্দিনে যে দুইজন প্রার্থী জিতেছিলেন তারা মুহাম্মদ সেলিম ও বদরুদ্দোজা খান। সেদিক দিয়ে বলতে গেলে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় সিপিআইএম বা বামফ্রন্টক জিতেনি। আবার বহু আসনে কংগ্রেসকে মুসলিমরা সমর্থন দিয়ে জিতিয়েছে।মুসলিম অধ্যুষিত মালদা মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের বিধায়ক,সাংসদ কতজন? তবে হ্যাঁ, বামফ্রন্টের সময় যে ভাবে মুসলিমরা শাসকের সাথে ছিল,এখনও আছে।সংখ্যালঘু বলে নয়,সংখ্যাগুরু হিন্দুরাও ছিল। এখনও আছে। সুতরাং মুসলিম ভোট মানেই নির্দিষ্ট একটি দলের বাধা ধরা ভোট এমন নয়। স্বাধীনতার পর থেকে মুসলিমরা ধৰ্মনিরপেক্ষ শক্তিকে ভোট দিয়েছে। বিভিন্ন রিপোর্ট দেখলেই সেটা বোঝা যাবে। তবে হ্যাঁ, আজকাল মুসলিমরা সচেতন হচ্ছে এবং নিজেদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হচ্ছে।’