তিয়াষা গুপ্ত, টিডিএন বাংলা : প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রের একটা ঘোষণা। উস্কে দিল এক রাশ প্রশ্ন। কংগ্রেস-তৃণমূল জোট না হলে কী হবে জোটের চেহারা? তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষপর্যন্ত কোনদিকে থাকবেন? সমঝোতা না হলে তিনি কি একলা চলার সিদ্ধান্ত নেবেন? প্রশ্ন অনেক। উত্তর এখনো অধরা।

সোমেন মিত্র তো সাফ জানিয়ে দিলেন তৃণমূলের সঙ্গে জোট নৈব নৈব চ। তিনি নাকি হাইকমান্ডকে এব্যাপারে বোঝাতে পেরেছেন। প্রশ্ন হল মহাজোটের ভিবিষ্যৎ কী হবে? লোকসভা নির্বাচন এগিয়ে আসার অনেক আগে থেকে দিল্লির বুকে জোট প্রক্রিয়া নিয়ে সলতে পাকানোর কাজ শুরু হয়ে গেছে। মমতা প্রথম থেকে সেই যজ্ঞে পুরোভাগে থেকেছেন। বারবার বিরোধীদের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি ছুটে গেছেন। বিজেপিকে ঠেকাতে বিরোধীরা যে মরিয়া চেষ্টা চালায় তাতে তৃণমূল নেত্রী প্রথম থেকেই অগ্রণী।

৫ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার আগের দিন চন্দ্রবাবু নায়ডুর ডাকে দিল্লিতে বিরোধী দলগুলির বৈঠক হয়। সেখানেও হাজির ছিলেন মমতা। বিরোধীদের বৈঠকের পর বারবারই বলা হয়েছে, ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে কাউকে প্রজেক্ট করা হবে না। ভোটের ফল দেখে বিরোধী দলগুলি আলোচনা করে এব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে যে নামগুলি বারবার আলোচিত হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে ৩ রাজ্যে কংগ্রেস সরকার গড়ার পর রাহুলের নেতৃত্ব স্বীকৃতি লাভ করে। তার ঠিক পরেই চেন্নাইতে এক অনুষ্ঠানে ডিএমকে নেতা স্ট্যালিন বলে বসেন, রাহুলকে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। সেই সম্ভাবনায় মমতা অবশ্য জল ঢেলে দেন। বিরোধীরা যে কাউকে নেতা হিসেবে প্রজেক্ট করছে না, তা নিয়ে বিজেপি কিন্তু কটাক্ষ করতে ছাড়েনি।

এদিকে তেলঙ্গানায় বিপুল জয়ের পর কেসিআর অকংগ্রেসি ও অবিজেপি জোট করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। তিনি মমতাকে পাশে চান। কলকাতাও এসেছিলেন।

উত্তর প্রদেশে কংগ্রেসকে সঙ্গে না নিয়ে বিজেপিকে ঠেকাতে বুয়া-বাবুয়া জোট করেছেন। কংগ্রেসের সঙ্গে কোনো আলোচনার ধার না ধেরেই আসন সমঝোতা করে ফেলে।

প্রশ্ন হল ২০১৯-এ বিজেপিকে ঠেকাতে এত জোট! হালে পানি পাবে তো!

কারণ যত জোট ততই ভোট ভাগাভাগির সম্ভাবনা প্রবল। শেষপর্যন্ত তৃণমূলের সঙ্গে যদি কংগ্রেসের জোট না হয়, তাহলে মমতা কার সঙ্গে থাকবেন, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। তবে সম্প্রতি বিভিন্ন ইস্যুতে রাহুল মমতাকে সমর্থন করেছেন। এত সহজে তিনি জোটের ভবিষ্যৎ মাঠে মারা যেতে দেবেন? যদি মমতা মহাজোটে না থাকেন, তাহলে তিনি কি অন্য কোনো জোটে ভিড়বেন, নাকি একলা চলার সিদ্ধান্ত নেবেন?

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হওয়া আর বিভিন্ন দলের বিচ্ছিন্ন হয়ে লড়াইয়ের মধ্যে তফাৎ আছে। এর মাসুল গুনতে হবে না তো রাহুলকে? ৩ রাজ্যে সাফল্য়ের পর তাঁর আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। সঙ্গে দলের অন্দরে প্রত্যাশাও বেড়েছে। এই অবস্থায় রাহুল কোনো ভুল চাল দিলে বিজেপি যে বসে থাকবে না তা বলাই যায়।