টিডিএন বাংলা ডেস্ক: এরাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিক আফরাজুল খানকে রাজস্থানে হিন্দুত্ববাদীদের হাতে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা করে সূর্য মিশ্র জানান,’কাজের সুযোগ না পেয়ে এরাজ্যে ছেড়ে যেসব গরিব মানুষ অন্য রাজ্যে কাজের জন্য যেতে বাধ্য হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীর উচিত কেন্দীয়  সরকারের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়কে সুনিশ্চিত করা । কর্মরত শ্রমিকরা যে রাজ্যে এখন কাজের জন্য আছেন সেখানকার রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে অবিলম্বে যোগাযোগ করা উচিত ।’ খবর গণশক্তির।
ঘটনাচক্রে এদিনই রাজ্য প্রশাসনের সদর দপ্তর নবান্নে প্রায় চার ঘন্টার ওপর কাটিয়ে গেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তের সমস্যার নিয়ে  সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গ সহ পাচঁ রাজ্য সরকারের সঙ্গে নবান্নের সভাঘরে বৈঠক করেন  কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকরাই রাজস্থানের নৃশংস খুনের ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চান। দায় এড়িয়ে যান রাজনাথ। আফরাজুল খানকে প্রথমে  কুপিয়ে তারপর  জখম শরীরে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারার ঘটনার নিয়ে প্রশ্ন শুনে প্রথমটা বুঝতে পারেননি রাজনাথ সিং তখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে মাথা নিচু করে  রাজনাথ সিংকে কিছু বলতে দেখা যায়। তার পরই রাজনাথ সিং জানান,’ এটা রাজনীতির প্রশ্ন ‘ বলে সাংবাদিক সম্মেলন শেষ করে উঠে পড়েন।

এরাজ্যের বাসিন্দা, এদেশের নাগরিক এক যুবককে নৃশংস ভাবে খুন করে  সেই খুনের ভিডিও পরিকল্পনা  করে প্রচার করার পর  দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায় এড়িয়ে যান, রাজনীতির প্রশ্ন বলে । রাজনাথ সিং সঙ্ঘ পরিবারের ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতা । কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কিভাবে এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হাতের কাছে পেয়েও একবারের জন্য মালদহের যুবকের কথা উত্থাপন করার সাহস দেখালেন না, এদিন সেই সংগত প্রশ্ন তুলেছেন  সূর্য মিশ্র ও মহম্মদ সেলিম ।  কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নবান্নে এসে সভা করছেন,তখন মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়টি উত্থাপনের সাহস দেখালেন না ।ভিনরাজ্যে কর্মরত পশ্চিমবঙ্গের একজন শ্রমিক সাম্প্রদায়িক শক্তির হাতে নিহত হওয়ার পরেও এরাজ্যের সরকার যথা সময়ে  হস্তক্ষেপ করতে ব্যর্থ হয়েছে ।ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সূর্য মিশ্রের । এদিন নবান্নের সভা ঘরে প্রায়  সাড়ে তিন ঘণ্টা প্রশাসনিক বৈঠক সেরে মমতা ব্যানার্জিকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজনাথ সিং । সাংবাদিক বৈঠক সেরে নবান্নের ১৪ তলায়  মুখ্যমন্ত্রীর ঘরেও ১০ মিনিট অতিবাহিত করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কিন্তু  মমতা ব্যানার্জি তাঁর কাছে রাজস্থানের নৃশংসতা নিয়ে একটি শব্দ খরচ করেননি । কারণ নবান্ন থেকে বাড়ি ফেরার পথে সাংবাদিকদের তিনি কোনো কিছুই বলেননি ।  কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাঁর প্রতিবাদ জানালে মমতা ব্যানার্জি সাংবাদিকদের না বলে কখনো নবান্ন ছাড়তেন না । বরং সূত্রের খবর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে বৈঠকে রাজনাথ সিং ও মমতা ব্যানার্জি  একে অপরের প্রতি আস্থা রেখেই বক্তব্য রেখেছেন । কেন  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে  কাছে পেয়েও রাজ্য তার ক্ষোভ জানাতে পারলো না উঠছে প্রশ্ন।