টিডিএন বাংলা ডেস্ক: পা বাড়িয়ে কারা, এ নিয়ে তোলপাড় তৃণমূলের অন্দরমহল। বিষ্ণুপুরের তৃণমূল সাংসদ সৌমিত্র খান ইতিমধ্যেই বিজেপি’র পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন। সূত্র বলছে, আরও ৬ জন তৃণমূল সাংসদ দল ছাড়ার অপেক্ষায়। এঁদের মধ্যে একজন বোলপুরের সাংসদ অনুপম হাজরা। তাঁর দল ছাড়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু বাকি পাঁচজন কারা?

আসলে পিসি-ভাইপোর একচ্ছত্র দাপটের ঠেলায় দলের ভিতর অনেকেরই এখন দমবন্ধ করা অবস্থা। একচেটিয়া এই আধিপত্য অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। পিসি-ভাইপো যেখানেই যাচ্ছেন লক্ষ, লক্ষ টাকা খরচ করে এলাকা সাজাতে হচ্ছে। প্রশাসনে সাজসাজ রব। অবস্থা এখন যা দাঁড়িয়েছে, বাকিদের দলে থাকাও যা, না থাকাও তা। আবার কাঁচা পয়সার লোভে দলে থাকার সুযোগ ছাড়াও যায় না।। যারজন্য রাজ্য জুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাণঘাতী গোষ্ঠী সংঘর্ষ এখন দৈনন্দিন ঘটনা। এরইমধ্যে দিল্লিতে বসে বুধবার তৃণমূল কংগ্রেস দল ছাড়ার সময়ে সাংবাদিকদের সামনে ক্ষোভ উগরে দেন সাংসদ সৌমিত্র খান। প্রকাশ্যেই তিনি বলেন, রাজ্যের একের পর এক নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হচ্ছে। এসব দেখে আমি বীতশ্রদ্ধ। তৃণমূল কংগ্রেস চিরকাল ক্ষমতায় থাকবে না কিন্তু নতুন কী শেখাচ্ছে তৃণমূল? এই প্রশ্ন তুলেছেন সৌমিত্র খান। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূ‍‌লের আমলে বাংলায় একটি ভোটও শান্তিপূর্ণ হয়নি। দলে পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন। দক্ষিণ কলকাতার নেতাদের দলে ছড়ি ঘোরানোর অভিযোগ, মিটিং-মিছিলে কোটি কোটি টাকা খরচ, সবই তিনি বুধবার প্রকাশ্যেই বলেছেন। সৌমিত্র খানের এই অভিযোগগুলিই দলের অন্দরমহলে আরও অনেকের অভিযোগ।

তৃণমূল গতকাল দু’জন সাংসদকে একসঙ্গে বহিষ্কার করেছে। কিন্তু ২০১৯‍‌ লোকসভা নির্বাচনের আগে আরও অন্তত ৫ জন তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়তে পারেন, এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। তাঁদের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যোগাযোগও রেখে চ‍‌লেছে।

তৃণমূল ছাড়ার প্রশ্নে একেবারে উপরের দিকে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার এক সাংসদের নাম। একটা সময়ে তিনি কেন্দ্রের মন্ত্রীও ‍‌ছিলেন। দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত প্রায় পাকা হয়ে গেছে। প্রথমদিকে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বিজেপিতে যাবেন। এখন আবার নাকি অন্য চিন্তা করছেন। একজন আইনজীবী সাংসদের নামও শোনা যাচ্ছে। আভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে তিনি এখন নিজের কেন্দ্রেই কোণঠাসা। এবার যদি টিকিটও পান তাঁর কেন্দ্রের ক’জন বিধায়ককে পাশে পাবেন, সন্দেহ আছে। দিল্লিতে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে তিনিও যোগাযোগ রেখে চলেছেন। হুগলি জেলায় একজন মহিলা সাংসদ, মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ আর একজন মহিলা সাংসদ এবং উত্তরবঙ্গের একজন সাংসদের নামও শোনা যাচ্ছে। উত্তরবঙ্গে ওই সাংসদের এলাকায় এবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের ফল খারাপ হয়েছিল।

এঁদের অধিকাংশই মুকুল রায়ের মধ্যস্থতায় বিজেপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানা গেছে। কোনও কোনও বৈঠ‍‌কে আরও কিছু পরিচিত মুখও হাজির ছিল বলেও খবর। কিন্তু বিজেপি’র তরফে কেউ মুখ খুলছেন না। তৃণমূল অবশ্য বলছে পাগ‍‌লের প্রলাপ। তবে বীরভূম লোকসভা কেন্দ্রে শতাব্দী রায়কে আর রাখতে চাইছেন না অনুব্রত মণ্ডল। তিনি চাইছেন শতাব্দী রায়কে অন্য জেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হোক। কৃষ্ণনগর কেন্দ্রে শতাব্দী রায়ের বন্ধু তাপস পালকে এবার ‍‌টিকিট দেওয়া নাও হতে পারে। অনুব্রত চাইছেন, শতাব্দী রায়কে কৃষ্ণনগর কেন্দ্রে প্রার্থী করা হোক।
সূত্র-গণশক্তি