টিডিএন বাংলা ডেস্ক: ২০১৪ সালের লোকসভায় বাংলা থেকে বিজেপি মাত্র দুটো আসনে জয়ী হয়েছিল। তবুও দুজনকেই মন্ত্রী করা হয়েছিল। কিন্তু বাংলায় এবার শাষক দলের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়ায় করেছে বিজেপি। বাংলা থেকে এবার বিজেপি ১৮টি সাংসদ হাতিয়ে নিয়েছে। তার পরেও কেন বাংলা থেকে মাত্র দুজনকে মন্ত্রী করা হল। তাও আবার পূর্ণ মন্ত্রী নয় সামান্য প্রতিমন্ত্রী। আর এনিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে বঙ্গ বিজেপি।

শুক্রবার বিজেপি রাজ‍্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও যে ব‍্যপার টা মনে প্রাণে মেনে নিতে পারছেনা তা তিনি সাংবাদিক সম্মেলনের বুঝিয়ে দিলেন। এদিন দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেন, ‘আমি শুনিয়ে এসেছি, দুইতেও দুই, আঠারোতেও দুই!’ তাঁর দাবি, শুক্রবার রাতে অমিত শাহের বাড়িতে নৈশভোজে তিনি এ কথা বলেছেন দলের সর্বভারতীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রামলালকে। ২০১৪ লোকসভা ভোটে এ রাজ্যের মাত্র দু’জন বিজেপি প্রার্থী জিতেছিলেন। মোদীর প্রথম মন্ত্রিসভায় তাঁদের দু’জনেরই ঠাঁই হয়েছিল। কিন্তু এ বার ১৮ জন জিতেও সেই দুইতেই আটকে থাকবে বাংলা? দিল্লির নেতাদের কাছে সেই প্রশ্নটাই তুলেছেন দিলীপরা।

দিল্লি যে বঙ্গ বিজেপির প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি, সেটা এদিন নানা ভাবে ফুটে উঠেছে দিলীপের সাংবাদিক বৈঠকে। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বাংলায় বিজেপির এই সাফল্য কি ‘মোদী হাওয়া’র কারণে? জবাবে তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘২০১৪ সালেও ব্যাপক মোদী হাওয়া ছিল। কিন্তু আমরা মাত্র দু’টি আসন পেয়েছিলাম।

এবার মূলত সাংগঠনিক শক্তির জোরেই বাংলা থেকে ১৮টি আসনে জিতেছি আমরা। বিধানসভা ভোটের আগে আমাদের সেই শক্তি আরও বাড়বে। তখন তৃণমূল বুথে এজেন্ট দেওয়ার লোক খুঁজে পাবে না।’ অর্থাৎ, তামাম বিজেপি দেশে তাদের সাফল্যের জন্য ঠারেঠোরে ‘মোদী হাওয়া’কেই কৃতিত্ব দিলেও বাংলায় বিজেপির সাফল্যের ভাগীদার শুধুমাত্র মোদীকে করতে চাইছেন না দিলীপরা। তিনি রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক শক্তিকেই এদিন প্রকারান্তরে সেলাম ঠুকেছেন ১৮টি আসনে জেতার জন্য।

বিহারের বিজেপি সভাপতিকে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দিয়েছেন মোদী। মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসা হয়েছে উত্তরপ্রদেশের দলের রাজ্য সভাপতিকেও। কিন্তু বাংলায় ২ থেকে ১৮ হলেও, মন্ত্রিসভায় আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়নি এ রাজ্যের বিজেপি সভাপতিকে। অথচ, শতাংশের নিরিখে উত্তরপ্রদেশের পরে বাংলাতেই বিজেপির ভোট বেড়েছে সব থেকে বেশি।

বঙ্গ-বিজেপির সভাপতির প্রতি অমিত শাহদের এমন উদাসীনতার কারণ কী? হেসে দিলীপের জবাব, ‘হয়তো আমাকে যোগ্য মনে হয়নি।’ পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি বলেন, ‘আসলে আমি আগেই বলে দিয়েছিলাম, মন্ত্রী হওয়ার কোনও ইচ্ছে আমার নেই। আমি সংগঠনের লোক। তাই সংগঠনের কাজ করতে চাই।’

মোদীর দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় কারা মন্ত্রী হচ্ছেন, তা জানাজানি হতেই বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রায় শোকের ছায়া নেমে আসে বঙ্গ-বিজেপিতে। কেননা, সকলেরই প্রত্যাশা ছিল পশ্চিমবঙ্গের অন্তত চার-পাঁচজনকে মন্ত্রী করা হবেই, যার মধ্যে অন্তত একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী তো থাকবেনই। কিন্তু তাঁদের সব আশায় জল ঢেলে নরেন্দ্র মোদী তাঁর মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দিলেন বাংলার মাত্র দু’জন সাংসদকে। বাবুল সুপ্রিয় এবং দেবশ্রী চৌধুরি। তা-ও আবার রাষ্ট্রমন্ত্রী।

শপথ অনুষ্ঠান শেষে অমিত শাহের বাড়িতে নৈশভোজেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা নিয়ে রাজ্য বিজেপি নেতাদের ক্ষোভের আঁচ পাওয়া যায়। সূত্রের খবর, সেখানে রামলালকে হাতের কাছে পেয়ে জানতে চান কোন যুক্তিতে বাংলা থেকে মাত্র দু’জনকে মন্ত্রিসভায় নিয়ে যাওয়া হল! সংখ্যাটা আরও বাড়ানো হল না কেন?

বিজেপির অন্দরের খবর, বাংলার নেতাদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে তাঁদের আশ্বস্ত করে কিছু মাস অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, সুযোগমতো বাংলা থেকে আরও কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসা হবে। সব কিছু ঠিকঠাক চললে এ রাজ্যের কোনও বিজেপি সাংসদকে ক্যাবিনেটেও নিয়ে আসা হতে পারে।

রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, এখনও মন্ত্রিসভা আরও অনেকটা প্রসারিত করার সুযোগ আছে মোদী-শাহদের কাছে। আপাতত বিভিন্ন রাজ্যের গোষ্ঠী রাজনীতির ভারসাম্য রেখে প্রথম দফায় ৫৮ জনের মন্ত্রিসভা ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন দিলীপও জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হবে। এবং সেখানে বাংলা থেকে আরও কয়েকজনের সুযোগ পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে।