নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ: ডাক্তার দেখাতে এসে বহরমপুরে দিবালোকে প্রকাশ্যে খুন হওয়া খাবির শেখের মৃত্যু নিয়ে এবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন রাজ্যের গ্রন্থাগার দপ্তরের মন্ত্রী তথা জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। মঙ্গলবার বহরমপুর রবীন্দ্র সদনে জমিয়তের আমন ও একতা সম্মেলন উপলক্ষে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে খাবির শেখের মৃত্যু ও পরবর্তীতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ব্যক্ত করেন।

সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ডাক্তার দেখাতে এসে দিনের বেলা এভাবে একটা মানুষকে পিটিয়ে মেরে দেওয়া হলো অথচ প্রশাসন একবারের জন্যও তার বাড়িতে দেখা করেনি। কেন যাবে না? কি জন্য পুলিশ আছে? প্রশাসনের কি কোনো দায়িত্ব নেই? এখন পর্যন্ত একটা এফআইআর দায়ের হয়নি কেন? তিনি বলেন, সে পাগল কি মানসিক প্রতিবন্ধী তাতে তোমার কি হে? তাই বলে একটা মানুষকে পিটিয়ে মেরে দিবে? ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চা গুলো নিয়ে কিভাবে সংসার চালাবে কি অসহায় বিধবা মহিলা? তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে ঘটনার বিবরণ জানানোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মহিলার দশ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরনের দাবির প্রতি সহমত পোষণ করেন। তিনি আরো এক কদম এগিয়ে বলেন, বহরমপুরে কি হিন্দু রাজ্য কায়েম করতে চাইছেন নাকি? যারা একাজ করেছে তারা হিন্দু নয় , শয়তান বলেও আখ্যায়িত করেন। এদিন সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলায় এত বড় ঘটনার পরেও মানুষ ধৈর্য অবলম্বন করায় তিনি জেলাবাসীকে সাধুবাদ জানান।

উল্লেখ্য, গত ৪ ঠা সেপ্টেম্বর বহরমপুরের সাহাজাদপুর গ্রামের পেশায় রাজমিস্ত্রি এক যুবক খাবির শেখ বহরমপুরের লালদিঘির একটি হেলথ ক্লিনিকে ডাক্তার দেখাতে আসেন। সেখানে তাকে প্রথমে ক্লিনিকের ভিতরেই গনধোলাই দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়।