তিয়াষা গুপ্ত, টিডিএন বাংলা: সোমেন মিত্রের ঘোষণা থেকেই বাম-কংগ্রেস হাত মেলানো সম্ভাবনা উঁকি দিয়েছে। এরপর শনিবারই সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির কথা থেকে পরিষ্কার, তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধী ভোট সবচেয়ে বেশি পরিমাণে নিজেদের ঝুলিতে পোরাই লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যেই কি বাম-কংগ্রেস হাত মেলাবে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে? সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গতকাল পরিষ্কার করে দিয়েছেন, তৃণমূলের সঙ্গে কোনোভাবেই জোট হবে না। তবে বামেদের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা তিনি উড়িয়ে দেননি। সূত্রের খবর, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বাম-কংগ্রেসের কৌশলগত সমঝোতা হতে পারে। বামেরা ৪২ টি আসনে প্রার্থীও নাও দিতে পারে। সেক্ষেত্রে তাদের লক্ষ্য হবে যত বেশি সম্ভব বিজেপি ও তৃণমূল বিরোধী ভোট ঝুলিতে পোরা। আর কংগ্রেস চায় সম্মানজনক শর্তে জোট করতে।

রাজ্যে তৃণমূল শক্তিশালী। ফলে তারা যে আসন রফার ক্ষেত্রে মাথা নোয়াবে না, তা বলাই যায়। বরং উল্টে আসন সমঝোতা নিয়ে বিরোধ মাথাচাড়া দেওয়া বিচিত্র ছিল না। তৃণমূল নিজেদের স্বার্থ দেখেই যে রফায় যেত, তা বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না। এই কারণে সোমেন মিত্ররা রাহুল গান্ধীকে বোঝাতে পেরেছেন, দলকে বাঁচাতে হলে যেন তৃণমূলের সঙ্গে জোট করা না হয়।

এখানেই শেষ নয়। প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে যাঁদের নাম ইতিমধ্যে প্রথম সারিতে তার মধ্যে মমতা অগ্রণী। রাহুলের নেতৃত্বও স্বীকৃতি লাভ করেছে। ডিএমকে নেতা স্ট্যালিন যখন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি রাহুলকে দেখতে চান, তখন সেই জল্পনা একেবারে খারিজ করে দিয়েছেন মমতা। ফলে তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেওয়া যায়, মহাজোট হল, তারা ক্ষমতায় এল তার পরেও প্রধানমন্ত্রী হওয়া নিয়ে যে জোটের অন্দরে বিরোধ বাঁধবে না, এক কথা কি বাজি রেখে বলা যায়?

কেরালা সিপিএম কিন্তু অনমনীয় অবস্থান ঝেড়ে ফেলে জোটের দিকেই এগোচ্ছে। কী রকম?

পলিটব্যুরে সদস্য ও কেরালার সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক কোডিয়েরি বালাকৃষ্ণণ বলেন, বিজেপিকে সরাতেই হবে। এক্ষেত্রে যে কোনো কৌশলগত অবস্থান নিতে হতে পারে।

সম্প্রতি ব্রিগেড থেকে চাঙ্গা হওয়ার মন্ত্র পেয়েছে সিপিএম তথা বামেরা। কারণ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের উপস্থিতি, লালে লাল ব্রিগেড। স্বাভাবিকভাবে ঝিমিয়ে পড়া সিপিএমকে জেগে ওঠার মন্ত্র দিয়েছে ব্রিগেড। পশ্চিমবঙ্গে সিপিএম ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া। ব্রিগেডই কি নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সূচনালগ্ন হয়ে থাকবে? আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বামেরা ঘুরে দাঁড়ায় কিনা এখন সেটাই দেখার।