নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ: অবশেষে দীর্ঘ এক সপ্তাহ পরে জিয়াগঞ্জ খুন কান্ডে মূল অপরাধীকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ। ধৃতের নাম উৎপল বেহারা(২০)। তার বাড়ি সাগরদিঘির সাহাপাড়া। পেশায় রাজমিস্ত্রি ওই যুবকই জিয়াগঞ্জের বাড়ি গিয়ে শিক্ষক ও তার পরিবারের তিনজনকে খুন করে।

মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ সুপার সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, গত ৮ই অক্টোবর জিয়াগঞ্জে বন্ধু প্রকাশ পাল, বিউটি মন্ডল পাল ও শিশু বন্ধু অঙ্গন পাল কে খুন করা হয়। পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে সহযোগিতা করে সিআইডি ও ফরেন্সিক দল। তদন্ত নেমে একটি চিঠি উদ্ধার করা হয় বিউটি মন্ডল পালের। বেশ কিছু প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় । সিআইডি ও পুলিশ তদন্ত শুরু করে সাগরদিঘী থানার বারালা গ্রামে তদন্ত করে সোমবার রাতে সাগরদিঘী থানার বারালা গ্রামের সাহাপুর থেকে উৎপল বেহারা নামে এক রাজমিস্ত্রিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের জেরায় অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন উৎপল বেহারা। বন্ধু প্রকাশ কে ৪৮ হাজার টাকা পলিসি করেছিল উৎপল। তার মধ্যে ২৪ হাজার টাকা পলিসি রসিদ পেয়েছিল বাকি ২৪ হাজার টাকা পলিসি পাইনি উৎপল বেহারা। বন্ধু প্রকাশ পালের সাথে সেই টাকা নিয়েই বিবাদ চলছিল। তার জেরেই এই খুন বলে পুলিশের। পাশাপাশি পুলিশের দাবি মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই পরিবারের তিন সদস্যকে খুন করে পেশায় রাজমিস্ত্রি ওই যুবক।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার নিজ বাড়ির ভিতরেই রহস্যজনক ভাবে খুন হন মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের লেবুবাগানের বাসিন্দা শিক্ষক বন্ধুপ্রকাশ পাল(৩৫), স্ত্রী বিউটি মণ্ডল পাল(৩০) ও ছেলে বন্ধুঅঙ্গন পাল(৮)। ঘটনার নেপথ্যে কী কারন রয়েছে তার অনুসন্ধানে নামে পুলিশ। যদিও পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইতিমধ্যেই সরগরম হয়ে উঠেছিল রাজনৈতিক মহল। বৃহস্পতিবার স্বয়ং রাজ্যপাল ঘটনায় প্রশাসনের ব্যর্থতার দিকে আঙ্গুল তুলেন। তারপরেই মন্তব্য-পাল্টা মন্তব্যে কার্যত উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহল। পুলিশ ঘটনাটিকে পারিবারিক বলে দাবি করলেও বিজেপি তাদের কর্মী খুন বলে দাবি করে আসছিলেন। অবশেষে সব রহস্য উদঘাটন করে ধরা পড়লো উৎপল বেহারা। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মুর্শিদাবাদবাসী।