নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: ওদের অনেকে জীবনে পথে নামেননি। সিএএ, এনআরসি বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিতে এসে নারীরা বলছেন, পথে যখন নেমেছি, সিএএ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরছি না। দেশের বিভিন্ন শহরে যে আন্দোলন হচ্ছে, সেখানে একটা বড় ভূমিকা রাখছে মহিলারা। শুক্রবার জুম্মার নামাজ পর ধৰ্মতলার গান্ধিমূর্তির পাদদেশে হাজার হাজার নারী উপস্থিত ছিলেন এনপিআর, এনআরসির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে। দেখা গেল, পুরুষের পাশাপাশি দলে দলে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে মহিলারা। আবার মা-দাদির হাত ধরে এনআরসির বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে শিশুরাও।

এদিন  হাওড়ার পিলখানার অহিদা খান তার দেড় বছরের দুধের শিশু হিবা খানকে নিয়ে মিছিল করতে করতে সভায় আসেন। স্বামী কাজে গেছেন সৌদি আরবে। বললেন, দুধের শিশু নিয়ে পথে নেমেছি। আমরা চাই এই সিএএ, এনপিআর বাতিল করুক সরকার।
টিডিএন বাংলার প্রতিনিধির সঙ্গে মা কথা বলতে বলতেই ছেলে হিবা কাঁদতে লাগলো। একটু আদর করে শিশুর হাতে ‘নো এনআরসি’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেওয়ার চেষ্টা করলেন মা। যেন পুতুল খেলা। অহিদা এরপর বললেন, কী করবো বলুন, এক বছর হল। দুধ খাবে। কিন্তু আন্দোলন করতে হবে যে, তাই এখন একটু কষ্ট করতে হচ্ছে।

ষষ্ঠ শ্রেণীর মুহাম্মদ কামরান, চতুর্থ শ্রেণীর রেশমি পারভীন এসেছে। মাঝে মাঝে জাতীয় পতাকা তুলে স্লোগান দিচ্ছে। কিছুক্ষণ থেমে সভায় অংশ নেওয়া মা বাবার কাছে চলে যাচ্ছে। আবার ফিরে এক সঙ্গে কিছু শিশু জড়ো হয়ে সভার এক দিকে স্লোগান দিচ্ছে, ‘ভারত জিন্দাবাদ’।

কলকাতা বিশ্ব বিদ্যালয়ের আলিপুর ক্যাম্পাসের সাহীন ইউসুফ এসেছিলেন এদিন। জানালেন, এখানে এমন অনেক মহিলা আছেন যারা কোনও দিন পথে নামেননি। এত লোককে কেন পথে নামতে হচ্ছে? নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহকে মনে রাখা উচিত, যে নারী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জন্ম দেয় তারা নতুন ভারতের জন্ম দিতে পারবে।

পার্কসার্কাসের প্রথম শ্রেণীর জয়নাব মুজাফফর বাবার সঙ্গে এসেছে। মায়ের কোলে বসে জাতীয় পতাকা নাড়ছে জুয়েলিয়া খান। এদিনের সভায় বাবা মায়েরা তাদের ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে এসেছেন। কিন্তু কেন পথে শিশুরা? এক মায়ের জবাব, আমরা আন্দোলনে এলে ছোট্ট ছেলে কোথায় থাকবে? ঘরে রেখে আসার চেয়ে সঙ্গেই এনেছি। ওরাও জানুক, জালিম সরকারের বিরুদ্ধে তাদের মা বাবারা পথে নেমেছে। হয়তো এখন সব কিছু বুঝতে পারছে না। কিন্তু একদিন বড় হয়ে সব জানলে নিজেকে গর্বিত ভাববে।

আরেক মহিলা আমাকে দেখেই এগিয়ে এসে বললেন, ‘কী ভেবেছেন? এত সহজেই রাস্তা ছেড়ে দেব? সিএএ, এনআরসি,এনপিআর না বাতিল হলে পাড়ায় পাড়ায় পথে বসে যাবো। ঘরের কাজও করবো, আন্দোলনও করবো।