টিডিএন বাংলা ডেস্ক: বাড়ির ভিতর ঢুকে শিশু সন্তান, শিক্ষক ও সন্তান সম্ভবা স্ত্রীর হত্যাকান্ড নিয়ে এখনও তোলপাড় মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ। ঘটনায় ব্যাপক চাপানউতর শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদে এক জনসভায় অংশগ্রহণ করে মৃত শিক্ষককে আরএসএস কর্মী বলে দাবি করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। শুধু তিনিই নয়, শমীক ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে রাহুল সিংহা সকলেরই দাবি, প্রকাশ পাল আরএসএসের কর্মী। যদিও রাজনৈতিক নেতাদের এহেন মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করলো মৃত শিক্ষক বন্ধু প্রকাশ পালের পরিবার। পরিবারের দাবি, প্রকাশ পালকে নিয়ে মিথ্যা রাজনীতি হচ্ছে। তিনি আরএসএস বা বিজেপির কোনো দলীয় কর্মী ছিলেন না। মৃত বন্ধু প্রকাশ পালের মাসতুতো ভাই রাজেশ ঘোষ আজ টিডিএন বাংলাকে ফোনে জানান, তিনি আরএসএস, বিজেপি বা কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন না। দাদাকে নিয়ে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে। সত্যিই যদি বিজেপি করতেন তাহলে স্থানীয় বিজেপি নেতারা কেন তাদের কর্মী খুন বলে সঙ্গে সঙ্গে দাবি করলো না? এমনকি স্থানীয় বিজেপি কাউন্সিলর স্বয়ং স্বীকার করেছেন তিনি কোনোদিন কোনো রাজনৈতিক দল করেননি। তাহলে কিসের স্বার্থে বিজেপি বা অন্যান্য দল তাদের কর্মী খুন বলে ভিত্তিহীন প্রচার চালাচ্ছে? তিনি দিলীপ ঘোষের দাবিকে মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করেন। পাশাপাশি রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এর মন্তব্যেরও কড়া নিন্দা জানিয়ে ঘটনার পূর্নাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান। অন্যদিকে নিহত শিক্ষকের বড় বোন বন্ধু প্রিয়া সরকারের দাবি, আমার ভাই কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিলেন না। তিনি খুব ভালো ব্যক্তি ছিলেন। আমি ঘটনয় অভিযুক্ত দের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে মৃত শিক্ষক বন্ধু প্রকাশ পালের মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি ডায়েরি ও একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির ব্যক্তির আগমনের জেরে খুন হয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি ওই শিক্ষক কয়েকজনের কাছ থেকে বেশ কিছু টাকাও ধার নিয়েছিল। খুনের পিছনে সেই ঘটনার জের রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার নিজ বাড়ির ভিতরেই রহস্যজনক ভাবে খুন হন জিয়াগঞ্জের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের লেবুতলার বাসিন্দা শিক্ষক বন্ধুপ্রকাশ পাল(৩৫), স্ত্রী বিউটি মণ্ডল পাল(৩০) ও ছেলে বন্ধুঅঙ্গন পাল(৮)। ঘটনার নেপথ্যে কী কারন রয়েছে তার অনুসন্ধানে নেমেছে পুলিশ। যদিও পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইতিমধ্যেই সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহল। বৃহস্পতিবার স্বয়ং রাজ্যপাল ঘটনায় প্রশাসনের ব্যর্থতার দিকে আঙ্গুল তুলেন। তারপরেই মন্তব্য-পাল্টা মন্তব্যে কার্যত উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহল।