টিডিএন বাংলা ডেস্ক: বাড়ির ভিতর ঢুকে শিশু সন্তান, শিক্ষক ও সন্তান সম্ভবা স্ত্রীর হত্যাকান্ড নিয়ে এখনও তোলপাড় মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ। ঘটনায় ব্যাপক চাপানউতর শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতা নিয়ে যখন সর্বত্র প্রশ্নের মুখে উঠছে ঠিক তখনই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে শুক্রবার বিবৃতি দেন মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ সুপার শ্রী মুকেশ। তিনি জানান ” এটি একটি পারিবারিক ঘটনা, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সমস্ত তথ্য প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিন স্যোশাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবর না ছড়ানোরও অনুরোধ করেছেন করেন তিনি। এদিকে রাজ্য পুলিশের এডিজে আইনশৃঙ্খলা জ্ঞানবন্ত সিং জানান, পরিবার, বন্ধুবান্ধব, পাড়া প্রতিবেশী কোনদিকথেকেই মৃত বন্ধু প্রকাশ বাবুর আরএসএস যোগের ইঙ্গিত মেলেনি। বাড়ি তল্লাশি করেও এসংক্রান্ত কোনো নথি পাওয়া যায়নি। বরং সংবাদ মাধ্যমের একাংশের খবর পরিবেশনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে মৃতের পরিবার।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার নিজ বাড়ির ভিতরেই রহস্যজনক ভাবে খুন হন জিয়াগঞ্জের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের লেবুতলার বাসিন্দা শিক্ষক বন্ধুপ্রকাশ পাল(৩৫), স্ত্রী বিউটি মণ্ডল পাল(৩০) ও ছেলে বন্ধুঅঙ্গন পাল(৮)। ঘটনার নেপথ্যে কী কারন রয়েছে তার অনুসন্ধানে নেমেছে পুলিশ। যদিও পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইতিমধ্যেই সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহল। বৃহস্পতিবার স্বয়ং রাজ্যপাল ঘটনায় প্রশাসনের ব্যর্থতার দিকে আঙ্গুল তুলেন। তারপরেই মন্তব্য-পাল্টা মন্তব্যে কার্যত উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহল। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মৃত প্রকাশ পালকে আরএসএস কর্মী বলে দাবি করলেও প্রথম থেকেই পরিবার স্পষ্ট জানিয়েছে প্রকাশ বাবু কোনোদিন বিজেপি, আরএসএস কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন না।