টিডিএন বাংলা ডেস্ক : জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র’ নাগরিক সংশোধনী বিল ক্যাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। এই বিলের অপব্যবহার করে অনায়াসেই দেশের মধ্যে তাদের চর নিয়োগ করতে পারে ভারতের শত্রু দেশ পাকিস্তান। সে দেশের গোয়েন্দা সংস্হা আইএসআই ক্যাবের আইনি সুযোগ নিয়ে তাদের গুপ্তচর ঢুকিয়ে দিতে পারে দেশের মধ্যে।

গত বছর জানুয়ারি মাসে রাজ্য সভার যৌথ সংসদীয় কমিটির অধিবেশনে র’ এর যুগ্ম সচীব ক্যাব বিলটি খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখার পর এমনই আশঙ্কার ব্যক্ত করেন। গোয়েন্দা দপ্তরের এই যুগ্মসচিব সুজিত চ্যাটার্জী জানান,” আমাদের দেশের মধ্যে এমন কোনো আইনি ধাঁচা থাকা উচিত নয় যাকে ব্যবহার করে দেশের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন সংস্থাগুলি
সুযোগ নিতে পারে, তাদের নিজস্ব লোকদেরকে দেশের মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে পারে ।” যদিও গত বছর লোক সভায় বিলটি পাশ করা হয়, তবে সংখ্যা গরিষ্ঠতা না থাকায় রাজ্য সভায় এসে আটকে যায়। উল্লেখ্য, এই যৌথ কমিটির শীর্ষে ছিলেন বিজেপি সাংসদ রাজেন্দ্র আগারওয়াল।

গত বুধবার রাজ্য সভায় ক্যাবের বিরুদ্ধে সওয়াল করেন ভার্তুরহারি মাহতাব, ডেরেক ও ‘ ব্রায়েন, মহম্মদ সেলিম, অধীর রঞ্জন চৌধূরী সহ নয়জন সংসদ। তাঁরা প্রত্যেকেই ক্যাবের বিপক্ষে বক্তব্য রাখার সময় যৌথ সংসদীয় কমিটির এই রিপোর্টকে তুলে ধরেন।

এদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা বিভাগ আইবির এক শীর্ষ কর্তা জানান যে, ক্যাবের ফলে দেশের ‘অল্প সংখ্যক’ মাত্র ৩১,৩৩৩ জন ব্যক্তি লাভবান হবেন।

সরকারি নথি অনুযায়ী, ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার ৩১,৩১৩ জন ব্যক্তি প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে ভারতে এসে আশ্রয় নিয়েছেন এবং নাগরিকত্ব চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছেন।পার্শ্ববর্তী আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে আসা এই সমস্ত হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুরা বর্তমানে দীর্ঘ মেয়াদি ভিসা নিয়ে দেশে বসবাস করছেন।

এই ৩১,৩১৩ জন শরণার্থীদের মধ্যে ২৫,৪৪৭ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের, ৫,৮০৭ জন শিখ, ৫৫ জন খ্রিষ্টান এবং অন্য দুজন পারসি ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ। ক্যাব লাগু হলে মুলত এই সমস্ত শরণার্থীরাই নগদ লাভবান হবেন, সংসদীয় যৌথ কমিটিতে গোয়েন্দা বিভাগের প্রদত্ত রিপোর্টে এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে।