কৌশিক সালুই, টিডিএন বাংলা, বীরভূম : ভোটের আগে পরে এবং বোর্ড গঠনকে উত্তাল হয়ে ওঠা মহঃবাজারের পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠলো। গতরাতে তৃণমূলের পার্টি অফিসে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠলো দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এলাকার বুথ সভাপতি শেখ মহসিনের দাবি, এই আগুন লাগানোর ঘটনায় জড়িত বিজেপি সমর্থিত কর্মীরা। অন্যদিকে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের দাবি তারাও তৃণমূল পার্টির সাথেই যুক্ত। এলাকায় বিজেপির জেনারেল সেক্রেটারির বক্তব্য, এই ঘটনা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল।

বীরভূমের মহঃবাজার ব্লকের দ্বারকোটা গ্রামের তৃণমূল কার্যালয়ে গতকাল রাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই এলাকার তৃণমূল ব্লক সভাপতি শেখ মহসিন দাবি করেন এই ঘটনা বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা করেছে। ঘটনার সূত্রপাত বেশ কয়েকদিন আগেই, তৃণমূলের ব্লক সভাপতি শেখ মহসিনের দাবি তার ছেলেকে বেশ কয়েকদিন আগে মদ্দিন, হাজিরুলরা বোম মারার হুমকি দিয়েছিল। সেই ঘটনায় তিনি মহঃবাজার থানায় একটি অভিযোগও করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল অভিযুক্তদের কাছে একটি নোটিশ আসে। নোটিশ আসার পরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। দুই পক্ষের মধ্যে ফের শুরু হয় বাদানুবাদ। এরপরই গতকাল রাতে তৃণমূল কার্যালয়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। তৃণমূলের ব্লক সভাপতি শেখ মহসিনের দাবি আগুন মদ্দিন এবং হাজিরুলরাই লাগিয়েছে। সাথে সাথে তার আরও দাবি যারা আগুন লাগিয়েছে তারা বিজেপি পার্টির সাথে যুক্ত।

আগুন লাগানোর ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে তাদের বক্তব্য, “আমরা বিজেপির সাথে যুক্ত নয়, আমরাও তৃনমূল করি। আমাদের বিরুদ্ধে নোটিশ আসার পর আমরা শুধু জানতে চেয়েছিলাম কেন আমাদেরকে এইভাবে নোটিশ পাঠানো হল। এরপর সকালে পুলিশের সামনেই আলো শেখ, হোসেন শেখ, কাজিম শেখ, আমিরুল এরা আমাদের হাজিরুল, হাফিজুল সহ ৪ জনকে মারধর করে। এই চারজনের মধ্যে একজনের মাথাও ফেটে গেছে।”

এলাকার বিজেপি মন্ডলের জেনারেল সেক্রেটারি সন্তোষ ভান্ডারী জানান, “যে সমস্ত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তারা সকলেই তৃণমূল পার্টির সাথে যুক্ত। এবারই প্রথম নয়, এর আগেও দেখা গিয়েছে বিভিন্ন জায়গায় নানান অশান্তি করে বিজেপির দিকে আঙুল তুলে দেওয়া হলো তৃণমূল দলের কাজ। এই ঘটনার সাথে বিজেপির কোন সম্পর্ক নেই, এই ঘটনা পুরোপুরি তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল।”