পাঠকের কলমে, টিডিএন বাংলা: জীবন নামক রোমাঞ্চকর কাহিনীতে কত চরিত্রের আগমন ঘটে আবার কত চরিত্রই কালের নিয়মে ফিকে হয়ে যায় তার ইয়াত্তা নেই। আবার কিছু চরিত্র হৃদয়ের এমন এক স্থানে নিজের স্থায়ী বাসস্থান গড়ে নেয় যা সময়-কালের কোন স্রোতই তার জায়গা বদলাতে সক্ষম হয়না। এক আলোকবর্ষ দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও আপন স্থানে সে দিব্বি বিদ্যমান থেকে যায়।

শিক্ষা জীবনে এরকম বেশ কয়েকটি চরিত্রের আগমন অবশ্যই ঘটেছে যারা স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটির গণ্ডি পেরিয়ে আজ অনেক দৃরে অবস্থান করছে। তবুও স্মৃতির গায়ে লেপ্টে আছে অনেকটা। ঠিক গ্রীষ্মের দিনে ঘর্মাক্ত শরীরে লেপ্টে থাকা আস্তিনের মত।

বছর ঘুরে যখন রমজান এসে হাজির হয় তখন তার শান্ত শীতল মুখ আর প্রশান্তি ভরা আলতো হাসিটা মনে পড়ে যায়। সব নিয়মের মাঝে যেন আমার একটা বড়ো নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অলিভিয়া চরিত্রের সাথে পরিচয় আমার ঘটেছিল কলেজের প্রথম বছরেই। বরাবরই সে শান্ত স্বভাবের মেয়ে হলেও প্রশান্তি ভরা হাসি নিয়ে সে সর্বদাই প্রাণোচ্ছল থাকতো। প্রায় একবছর এক সাথে পঠনপাঠন করে আবার পৃথক রাস্তার পথিক হয়েছি। তারপর আবার স্পোকেন ইংলিশ ক্লাসে বেশ কয়েক মাস একসাথে দিন কাটে। রমজান মাসে ক্লাসের সময় নির্ধারণ করার কারণে আমাকে আর তানিয়া কে স্বভাবতই রোজা রেখেই ক্লাস করতে হত।

আমার খুব ভালোমতই খেয়াল আছে আমাদের উপবাসকে খুব স্বাভাবিক ভাবেই নিয়ে ক্লাসে উপস্থিত বন্ধুরা আমাদের সামনে নির্দ্বিধায় পানাহার করতো কিন্তু অলিভিয়া ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। সে জল পান তো দূরের কথা জলের বোতল হাতে নিয়ে পুনরায় আমাদের রোজার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে জল পান না করে যথাস্থানে রেখে দিত। যেখানে বে-রোজাদার মুসলিম বন্ধু আমাদের সামনে জল পান করত কোন দ্বিধা ছাড়াই। সমস্ত ভেদাভেদের উর্ধ্বে অলিভিয়ার এহেন আচরণ বরাবর হৃদয় ছুঁয়ে যেত। হাজার মাইল দূরত্বের পরও আজও বছর ঘুরে যখন সিয়াম আসে অলিভিয়ার প্রশান্তি ভরা মুখ হৃদয়ে শান্ত শীতল ঢেউ জাগায়।

ভারতে প্রতিটি কোণে এমনি ভাবেই যদি মেলে সৃষ্টি, অলিভিয়া, অভিষেক স্যারের মত মানুষদের, যারা অন্যের ধর্মেকে শুধু সম্মান জানিয়ে ক্ষান্ত হন না, অকপটে অন্যের ধর্মকে পালন করতে সাহায্যের হাত বাড়িয়েও দেন। তবে এ বিশ্ব সংসারে ভারত হবে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সমস্ত বিভেদকামীর গালে সাপটে চড় কষিয়ে ভারত হবে এক সম্প্রীতির ভারত। আর এভাবেই সিয়াম সাধনায় সামিল হোক সম্প্রীতির শুদ্ধতা।

আফরিদা খাতুন আঁখি
পাঁচলা, হাওড়া