পাঠকের কলম, টিডিএন বাংলা : আজ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব হিজাব’ দিবস। ২০১৩ সালে নাজমা খান নামক বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মার্কিন এক যুবতীর ডাকে শুরু হয় এই হিজাব দিবস পালন। ২০১৩ সাল থেকেই হিজাব দিবসে মুসলিমদের সাথে সাথে অমুসলিমরাও হয়ে উঠেছে ওতপ্রোত অংশ। বিশ্ব হিজাব দিবস পালনের ইতিহাস বা কারণ স্বচ্ছ না হলেও সকলের মধ্যে স্বল্প হলেও ধারণা বিদ্যমান।

‘হিজাব’ অর্থাৎ পর্দা এই বিষয়টা নিয়ে মুসলিম অমুসলিম সকলের মধ্যেই রয়েছে ভ্রান্তির এক গাঢ় ধারণা। অমুসলিমদের ধারণা হিজাব নারীদের গৃহে আবদ্ধ করার সব থেকে বড়ো যন্ত্র, নারীদের দাবিয়ে রাখার সব থেকে বড়ো উপায়। তাদের ধারণা শুধু এখানেই থেমে থাকেনা তারা হিজাব নামক এই একটুকরো কাপড়ে চোখ রেখে অবলোকন করে ইসলামে নারীদের অধিকার অবশেষে তাদের ধারণা ‘ইসলামে নারী স্বাধীনতার বিরোধী’ এই পর্যায়ে এসে বদ্ধমূল হয়।

কেবল অমুসলিমদের মধ্যেই যে ভ্রান্ত ধারণা আছে তা ধারণা করা সম্পূর্ণ রুপে আর একটা বড়ো ভ্রান্তি।
মুসলিম সমাজ ‘হিজাব’ কে দিয়েছে তাদের গোঁড়ামির ‘স্মারক’। তাদের ধারণা ‘হিজাব’ ধারণাকরী নারীর কেবল ঘরের কোণেই সীমাবদ্ধ থাকাই তাদের সতীত্বের পূর্ণতা, আর ‘হিজাব’ কেবল নারীদের জন্যই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

হিজাব বা পর্দাকে করা হয়েছিল নারীদের পূর্বে পুরুষদের উপর বাধ্যতামূলক। বর্তমান মুসলিম সমাজে পরিলক্ষিত হয়, পুরুষরা যতটা সম্ভব আঁটসাঁট পোশাক পরিধান করে তাদের মহিলাদের হিজাবের বিষয়ে লম্বা চওড়া ভাষণ দিয়েই ক্ষান্ত হয়না, হিজাবের মর্ম বুঝে ওঠার পূর্বে তাদের উপর হিজাব টাকে একপ্রকার জোরপূর্বক চাপিয়ে দেয়। যে পুরুষ নিজে হিজাবের বিধান সীমা লঙ্ঘন করে তাদের কোন অধিকার নেই জোরপূর্বক ভাবে তাদের মহিলাদের উপর হিজাব চাপিয়ে দেওয়া। ‘হিজাব’ কেবল নারী নয়, পুরুষদের উপরও মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা পবিত্রতায় পরিপূর্ণ এক নিয়ামত স্বরুপ।

আর হিজাব’ কে আল্লাহ নারীদের ঢাল স্বরুপ নিয়ামত হিসাবে প্রেরণ করছেন, পৃথিবীর বুকে একজন নারীকে বৈধ সর্বক্ষেত্রে স্বচ্ছন্দে উপস্থিত থাকতে পারার স্মারক তো রয়েছে ‘হিজাব’ এর মধ্যেই নিহিত। ইতিহাস স্বাক্ষী নবী নন্দিনী ফাতেমা(রাঃ) কেবল পর্দানশীন গৃহ কর্মে নিপুণা নারী ছিলেননা, তিনি একজন সেবিকাও ছিলেন। উম্মুল মোমিনিন আয়েশা(রাঃ) কেবল হিজাব ধারণ করে গৃহ কোণে আবদ্ধ থাকেননি তাঁর জ্ঞানের মাত্রা ছিল এতটাই উচ্চ যে সাহাবাদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নিতে তাঁর কাছে দারস্থ হতে হত।

বিশ্বের প্রথম বিশ্ব বিদ্যালয় তো ফাতিমা-আল-ফিহরী নামক এক হিজাব ধারণ কারী নারীর হাতেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর বর্তমানে চোখ রাখলে তাওয়াক্কুল কামরান তো এই বিশ্বের বুকে ‘লৌহ মানবী’ হিসাবে উদঘাটিত হয়েছে হিজাব ধারণ করেই। আজ মার্কিন সিনেটে একের পর হিজাব ধারণকারী নারীদের ঘটছে আগমন। রাজান-আল-নাজ্জার তো হিজাব ধারণ করেই সাহসিকতার শিখরে পৌঁছে নিজেকে বিলীন করেছেন। আসমা-এল-বেলত্যাগী সে ও এই একটুকরো কাপড়কে নিজের বিশ্বাসের সাথে আঁকড়ে ধরে শেষ নিঃশ্বাস ফেলে রচনা করেছিল এক অনন্য মানবতার গান।

‘হিজাব’ সামিল হোক জীবনের সকল ময়দানে, হিজাব সামিল হোক নিট থেকে নেট সকল স্তরে। সাফিনা খান থেকে উমাইয়া খান সকল নারীর জীবনে সামিল হতে দেওয়া হোক ‘হিজাব’ কে। গোঁড়ামি জিঞ্জির ভেদ করে ‘হিজাব’ হয়ে উঠুক আমাদের বেঁচে থাকার স্বাধীনতা। হয়ে উঠুক এই পৃথিবীতে বিচরণ করার জন্য একটি রক্ষকবচ সম, হয়ে উঠুক আমাদের মান-সম্মান, হয়ে উঠুক আমাদের আত্মমর্যাদা। আর এতেই তো রয়েছে ‘হিজাব’ এর পরিপূর্ণতা।

আফরিদা খাতুন আঁখি
পাঁচলা, হাওড়া

Advertisement
mamunschool