ছবি সংগৃহিত

পাঠকের কলম, টিডিএন বাংলা : মদের অবাধ লাইসেন্স একটা সভ্য জাতি ও সমাজের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। মদ হল অন্যতম মারাত্মক এক মাদক দ্রব্য, যা মানুষের শারীরিক ক্ষতির সাথে সাথে সাংসারিক ও সমাজজীবনে নানান অশান্তি ডেকে আনে।

মদ খেলে চিন্তাভাবনায় শিথিলতা আসে। মদের নেশায় ডুবে মানুষ নানা অনৈতিক ও অসামাজিক আচরণ করে বসে। কারণ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মানুষ তার বোধশক্তি, বিচার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। মদ নেশার দরুণ যুবতী থেকে শুরু করে বয়স্ক মায়েরা ধর্ষিতা হচ্ছে, চুরি ডাকাতি খুন খারাবি বাড়ছে। নদীয়ার ২১ বছরের যুবক দ্বারা ১০০ বছরের বৃদ্ধা ধর্ষণ, দক্ষিণ ২৪ পরগণার সংগ্রামপুরে বিষমদ কান্ড সবার জানা। মদের নেশা প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা কিছুতেই মদ্যপান কোরো না; কারণ এটি সব মন্দ কাজের উৎস।” তাই এটা হলো সরকারের জনবিরোধী সিদ্ধান্ত।

বর্তমানে সারা রাজ্যে বিলাতি মদের দোকান ও পানশালা রয়েছে প্রায় ৫,৩০০।  দোকান, পানশালা খুলে এবার দেশি ও বিলিতি মদ বিক্রি করবে রাজ্য সরকার। ২৮টি জেলায়  হাজার খানেক নতুন মদের দোকান, পানশালার লাইসেন্স পাওয়ার জন্য উপযুক্ত জায়গাও খোঁজা হচ্ছে। রাজ্য সরকারি সংস্থা ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট বেভারেজেস কর্পোরেশন লিমিটেডকে মদের দোকান, পানশালা খোলার নতুন লাইসেন্স দেওয়া হবে। মদের দোকান, পানশালা থেকে লভ্যাংশ সরকারি কোষাগার ভরাতে সাহায্য করবে। এর ফলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে সরকারি কোষাগারে ন্যূনতম ১২,০০০ কোটি টাকা বাড়তি আসবে।

ভারতে মদ থেকে সর্বাধিক আয় করা দশটি রাজ্য হল তামিলনাড়ু, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, উত্তরপ্রদেশ,  অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, পাঞ্জাব। বিপরীতে ভারতের প্রথম মদমুক্ত রাজ্য কেরালা। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার কিছুদিন আগে বিহারকে মদমুক্ত রাজ্য হিসাবে ঘোষণা করেন। মদ বিক্রিতে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। মদের রাজস্ব ছাড়াও তো প্রতিবেশী সরকার তার রাজ্য চালাচ্ছে। তাহলে আমাদের রাজ্যে সেটা সম্ভব নয় কেন? উল্টে উন্নয়নের বান আনতে রাজ্যে মদের দোকান  খুলে মদ বিক্রির  উপরে  জোর  দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। অথচ বাম আমলে বিরোধী দল হিসেবে এরাই মদের বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু আমরা শুভবুদ্ধিসম্পন্ন, সচেতন নাগরিক হিসেবে মদমুক্ত বাংলা গড়ার দাবী জানাচ্ছি।

সুরাইয়া খাতুন