পাঠকের কলমে, টিডিএন বাংলা: ১১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১৩ মে পর্যন্ত সাত দফায় শুরু হয়েছে ২০১৯ ভারতের সাধারণ নির্বাচন। ১৫ তম এই লোকসভা নির্বাচনে সব নির্বাচক অর্থাৎ ভোটারদের ভোট দেওয়ানোর লক্ষ্য নিয়ে উদ্যোগী নির্বাচন কমিশন। ভোটার দের বুথমূখী করতে নিত্য নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করে চলেছে কমিশন। সম্প্রতি মাইগ্রেট লেবার কাম ইলেকটর অর্থাৎ  পরিযায়ী শ্রমিক ভোটারদের তথ্য বুথ লেভেল থেকে সংগ্রহ করেছে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ জেলা নির্বাচন সেলও। নিয়ম মাফিক মুর্শিদাবাদ জেলার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক হলেন জেলাশাসক ডঃ পি. উলগানাথন। এই জেলায় পরিযায়ী শ্রমিক ভোটার অর্থাৎ যেই ভোটাররা  ভিনরাজ্যে বা পশ্চিমবঙ্গের বাইরে শ্রমিক হিসেবে মজদুরি করছেন, তাদের ভোটের দিন নিজ ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট বুথে নিজের মুল্যবান ভোট প্রদানে নেতা নির্বাচন করে বৃহত্তর ভোটযোজ্ঞে শামিল হয়ে বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতন্ত্রের ভিত মজবুত করতে আহবান জানান হয়েছে। ভোটের আগে বাড়ি ফেরার আহ্বান জানিয়ে তার কর্মস্থলে তার কাছে দপ্তরি পোস্টকার্ড (চিঠি) পাঠাচ্ছেন মুর্শিদাবাদ জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তথা জেলাশাসক ডঃ পি. উলগানাথন। তাই কমিশনের বুথ লেভেল অফিসারদের মাধ্যমে বুথে বুথে এই ভোটারদের মোবাইল নং ও ডাকঠিকানা সহ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ডাকঠিকানা পেয়েই জেলার কর্তারা ঘরে বসে বিশেষ ভাবে ছাপানো পোস্টকার্ডে সেই ডাকঠিকানা লিখে ডাক বাক্সে ফেলে দেবেন! এদিকে কঠোর পরিশ্রম করে প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি হেঁটে (গিয়ে) কথা বলে সংশ্লিষ্ট পরিবারের বা আত্মিয়ের থেকে পরিযায়ী শ্রমিক ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করে এনেছেন বা আনছেন বুথ লেভেল অফিসাররা। তবে যথাযথ ডাক ঠিকানা সংগ্রহ করা কি অত সহজ কাজ? নাকি সম্ভব?
        বাস্তব হল, পরিবারের লোকজন তাঁদের বাবা, মা, স্বামী, বৌমা, ছেলে বা মেয়ে রাজ্যের বাইরে কোথায় গেছেন বা আছেন মজদুরিতে, হয়তো বলতে পারেন বা বলছেন এটুকুই। যেমন- ব্যাঙ্গালুরু, কেরালা, কর্ণাটক, মুম্বাই, দিল্লী ইত্যাদি। কিন্তু ডাকচিঠি পৌঁছোনোর মতো যথাযথ পুঙ্খানুপুঙ্খ ডাক-ঠিকানা কি দিতে পারছেন ?  এইসব পরিযায়ী শ্রমিকরা রুটিরোজগারের ধান্দায় কখনো আর্থিক তাগিদে বা পরিবারের চাহিদায় স্বরাজ্যের বাইরে কর্মরত (একপ্রকার) বাধ্যতামূলক মজদুর অর্থাৎ শ্রমিক। নিজের রাজ্য ও পরিবার পরিজন ছেড়ে দূরে থাকতে কে চায় এতদিনের জন্য? এরা ভিনরাজ্যে কেউ যে স্থায়ী কোনো পদে বা কাজে যুক্ত নন তা বলার অপেক্ষা রাখেনা, ফলে মাসে মাসে বা কিছু সময় পরপর ডাক ঠিকানা বদল করতেই হয় ওদের, কাজের সন্ধানে ও উপার্জনের প্রয়োজনে। গ্রামগঞ্জে ক’জন পরিবারই বা সেই ডাকঠিকানা জানেন বা সংগ্রহে রাখেন? কিংবা তাদের নিয়মিত আপডেট রাখেন যাতে সেখানে চিঠি পৌঁছোবে? ফোনের যুগে এসবে বাড়তি সময় ব্যায়ের প্রয়োজনও পড়েনা। কোথাও, কাউকে যদি এই পরিযায়ী শ্রমিকদের কর্মস্থলের ডাক ঠিকানা জানানোর জরুরত থাকত তখন হয়তোবা জানা যেতে পারতো, কিন্তু তাতে ওদের হয়রানির ভোগান্তিতে পড়ার সম্ভাবনা থেকেই যায় কর্মস্থলের ডাক ঠিকানা জানিয়ে সংশ্লিষ্টের অনুমতি গ্রহণের ব্যবস্থা থাকলে, তাও আবার শুধুমাত্র ভোট নেওয়ার বা দেওয়ানোর জন্য।
        অন্যদিকে, কেবলমাত্র পোস্টকার্ড পাঠিয়ে কি এই শ্রমিকদের যথাসময়ে ফেরানো সম্ভব? তার সঙ্গে তাদের জন্য উপযুক্ত ট্রেন, টিকিটের ব্যাবস্থা করা গেলনা কেন? যায় হোক, পোস্টকার্ড যদি পৌঁছোয় সঠিক হাতে, সময়মতো তা পাওয়ার পর কি ট্রেনে রিজার্ভ আসন নিশ্চিতভাবে সময়ের আগে পেতে পারবেন সেই অভিবাসী শ্রমিক ভাইয়েরা? নাকি ভোটের পরেই কোনো ট্রেনে আসন নিশ্চিত (পর্যাপ্ত বা খালি দেখতে) পাবেন?
                               বিনীত
                  হামিম হোসেন মণ্ডল
                  নওদা, মুর্শিদাবাদ