সুরাইয়া খাতুন, টিডিএন বাংলা : মুসলিম সম্প্রদায়কে বুঝিয়ে দেওয়া হয় তারা দেশ তথা রাজ্যের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক। তারা ব্রাত্য। তাই তাদের সুখ স্বাচ্ছন্দ্য, সুযোগ সুবিধার দিকে, স্বার্থের দিকে তাকায় না সরকার। সম্প্রতি ছট পূজার জন্য দুদিনের ছুটি পায় বিহারীরা। যেখানে মুসলিমদের প্রধান উৎসব ঈদে ২ দিনও ছুটি পাওয়ার যোগ্যতা পায়না হতভাগারা। ঈদে ছুটি নিয়ে বরাবরই সব সরকারই উদাসীন। কিন্তু প্রশ্ন হল, রাজ্যে বিহারীর সংখ্যা কি মুসলিমদের থেকে বেশী? সারা দেশের মতো বাংলার মুসলিমরাও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে চলেছে।

তৃণমূলের প্রতি কোনো রকম বিদ্বেষ নেই। বরং কিছু কিছু জায়গায় তৃণমূলকে সমর্থন করি। কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষপাতিত্ব করি না। তাই এটা রাজনৈতিক লেখা নয়।

পশ্চিমবঙ্গে ৩২ শতাংশের বেশি মুসলিম বাস করে। সরকারি চাকুরিজীবী মুসলমানের সংখ্যা মাত্র ২.১ শতাংশ। অথচ গুজরাটে সংখ্যাটা তুলনায় অনেকটাই বেশি (৫.৪%)। শিক্ষা, সরকারী চাকরী ইত্যাদি প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারা ক্রমশঃ আরো পিছিয়ে যাচ্ছে। কেন তারা সচেতন হতে পারছে না? কেন মাঝপথে পড়াশুনা ছেড়ে কাজের তাগিদে ভিন রাজ্যে যেতে হবে?

একটা কথা প্রায়ই শুনতে পাওয়া যায় মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নাকি মুসলিম তোষণ করেন। ইফতার পার্টিতে হাজিরা দিলে, মাথায় ওড়না দিলে, টুপি পরলেই কি মুসলিম দরদী হওয়া যায়? মমতা ব্যানার্জিকে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করে বিপক্ষীরা ‘মমতা বেগম’ নাম দিয়েছেন। কিন্তু সত্যি কি তাই?

‘হাজী মোহাম্মদ মহসীন ফান্ড’ থেকে ইমাম ভাতা দিলে কি মুসলিম তোষণ হয়? কোটি কোটি টাকার ওয়াকফ সম্পত্তি সরকার নিজের দখলে রাখলো। সেটাও কি মুসলিম তোষণ?গত দুর্গা পূজা উপলক্ষে পুজো প্যান্ডেলগুলো ১০,০০০ টাকা করে পেল। সেটা কি মুসলিম তোষণ?

হ্যাঁ, দিদি সর্বদা মুসলিম তোষণ করে গেছেন। আর এই তোষণের ফলে মুসলিমরা শোষিত হয়ে গেছে। আসলে রাজনীতিতে মুসলিম ভোটব্যাংক খুব গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। তাদের ৩০% ভোট ব্যালান্স ভোট। তারা যেদিকে যাবে সরকার তাদের। তাই প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দল মুসলমানদের ইচ্ছেমতো ব্যবহার করে। আজ বর্তমান পরিস্থিতিতে এ কথা সবাই জানে। এই অবস্থায় মুসলিমরা যদি না জাগ্রত হয় তাহলে তাদের সার্বিক উন্নতি সম্ভব নয়। জাগো মুসলমান, জাগো। নিজেদের অধিকার বুঝে নাও।