পাঠকের কলম, টিডিএন বাংলা: ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর দিল্লিতে এক ২৩ বছরের প্যারামেডিক্যালের ছাত্রীকে বাড়ি ফেরার পথে চলন্ত বাসের মধ্যে নৃশংস ভাবে গণধর্ষণ করেছিল ছ’জন। বিচারচলাকালীনই পাঁচ জনের মধ্যে অন্যতম অভিযুক্ত রাম সিংহ ২০১৩ সালেই তিহার জেলে আত্মহত্যা করে। ষষ্ঠ জন নাবালক হওয়ায় তিন বছর জেল খেটে মুক্ত হয়।

আর বাকী চার অভিযুক্ত অক্ষয় ঠাকুর (৩১), পবন গুপ্ত (২৫), বিনয় শর্মা (২৬), মুকেশ সিংহ (৩২)-কে গত ২০ মার্চ ভোরের আলো ফোটার আগে (ভোর সাড়ে পাঁচটায়) ফাঁসি দেওয়া হল দিল্লির তিহার জেলে। দীর্ঘ ৭ বছর ৩ মাস পরে নির্ভয়া ধর্ষণ কাণ্ডের এই অভিযুক্তদের ফাঁসি দেওয়া হল। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরেই চার দোষীকে ফাঁসির সাজা শুনিয়েছিল ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট। তার পরেও চার দোষীর ফাঁসি হতে লেগে গেল দীর্ঘ এতগুলো বছর। অবশেষে শান্তি পেল নির্ভয়া, আর চার ধর্ষক পেল চরম শাস্তি!

নিঃসন্দেহে এটা খুব ভালো খবর। কিন্তু সাত বছর লেগে গেল এটাই দুঃখের বিষয়! সুবিচার পাওয়ার জন্য এতো বছর অপেক্ষা করতে হল! আরও কষ্ট হলো এটা দেখে যে, ধর্ষকদের একজন দিব্যি জুভেনাইলে বেঁচে আছে! তিন বছরের জেল হয়েছে তার। অথচ এই নাবালকই সব চেয়ে বেশি অত্যাচার চালিয়েছিল ওই তরুণীর উপর।

তাহলে নির্ভয়া সুবিচার পেল কি, সেই প্রশ্নটা থেকেই যায়। এই ফাঁসি তখনই পরিপূর্ণ আনন্দ নিয়ে আসবে, যখন ধনী না গরীব, নাবালক না সাবালক, প্রভাবশালী না অতি সাধারণ মানুষ প্রভৃতি না দেখে সব ধর্ষকের পরিণতিই হবে শুধু ফাঁসি।

আনন্দ তখনই আসবে, যখন আসিফার ধর্ষকদের, উন্নাওয়ের ধর্ষকদের ফাঁসি হবে। আশারাম, রামরহিমের মতো কুখ্যাত ধর্ষক ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির জেরে বাইরে না ঘুরে, তাদেরও ফাঁসি দেওয়া হবে। আইন সবার জন্য সমান হবে। যার টাকা আছে তার কাছে আইন খোলা আকাশের মত হবে, এমনটা যেন না হয়। তখনই এই আনন্দটা পরিপূর্ণ রূপে আসবে।

সুরাইয়া খাতুন
ডায়মন্ডহারবার