পাঠকের কলমে, টিডিএন বাংলা : ‘বাংলা’ লাগি শহীদ যখন
                                             রফিক-সালাম-জাব্বার
                                            ‘বাঙালি’ তুমি? প্রশ্ন কেন
                                            ঘুরপাক খায় বারবার?

কৃষ্ণনগর লোকালে এক আগন্তুকের সাথে অফিস যাত্রী সঞ্জীব বিশ্বাসের আলাপ। আলাপ থেকেই সমাজ ও দেশের নানান প্রসঙ্গে উঠে এল একের পর এক আলোচনা। ভদ্রলোকের জ্ঞানগর্ভ রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষণ মন দিয়ে শুনছেন মুখোমুখি দুই সিটের যাত্রীরা। পারস্পরিক মত বিনিময়ে সহযাত্রী সহ খুশি উভয়েই। দেখতে দেখতে কখন যে ট্রেন পৌঁছে গেছে শিয়ালদা টের পাইনি কেউই। বিদায় কালে কৃতজ্ঞতার সাথে সঞ্জীব বললো, দাদা আপনার মূল্যবান আলোচনা শুনে খুব ভালো লাগলো। সচরাচর এমন কথা শোনা যায় না। কিন্তু আপনার নামটা তো জানা হলো না!
আগন্তুক জানালো, তার নাম আব্দুর রউফ। তৎক্ষণাৎ ভ্রু কুঁচকে সঞ্জীবের প্রতিক্রিয়া-
ওহঃ! আমিতো ভেবেছিলাম আপনি ‘বাঙালি’!

বছর কয়েক আগের সত্য এ ঘটনা আজও আকছার ঘটে চলেছে সমাজের সর্বত্র। আমাদের অন্তরেই নিহিত বিভেদ বিষ। এদিকে ঘটা করে ভাষা দিবস পালনের ধুম! যে বাংলা ভাষার জন্য রফিক, সালাম, জাব্বার, বরকত রা পাকিস্তানি বুলেটের মুখে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিল অকাতরে, তারপরেও সমাজে হাজারো সঞ্জীবদের মন থেকে ভ্ৰান্ত ধারণাগুলো কবে দূর হবে?

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বাংলা ভাষার স্বীকৃতির দাবিতে প্রথম সোচ্চার হয়েছিলেন বহুভাষাবিদ ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। তিনি ১৯১৮ সালে বিশ্বভারতীর একটি সভায় ভারতের সর্বসাধারণের ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার দাবি উত্থাপন করেন। ১৯৩৭ সালে মাওলানা আরাম খাঁ বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদে বাংলা ভাষাকে ভারতের রাষ্ট্রীয় ভাষা করার দাবি জানান। এছাড়াও ডঃ শহীদুল্লাহ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা করার প্রস্তাব হলে তিনি তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবি পেশ করেন। তারপরও কেন এই প্রশ্ন আজও ঘুরপাক খায়- আপনি কি বাঙালি?

রেবাউল মন্ডল
থানারপাড়া, নদীয়া