https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=137892624053783&id=100034991394269

পাঠকের কলমে, টিডিএন বাংলা:

মাননীয়,
শিক্ষামন্ত্রী,
পশ্চিমবঙ্গ সরকার
বিকাশভবন, কলকাতা

মহাশয়,
গত ২৭ শে মে, আপনি স্যোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছাত্র, শিক্ষক ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি বর্গের নিকট রাজ্যের শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য পরামর্শ আহ্বান করেছেন। কিন্তু আমাদের মত অনাঙ্ক্ষিতদের (!) জন্য কমেন্টবক্স না থাকায় মিডিয়াকেই বেছে নিতে বাধ্য হলাম।

আমি শামীম আখতার ( রাজ্য সম্পাদক), রাজ্য পার্শ্বশিক্ষক সমন্বয় সমিতি’র পক্ষ থেকে কিছু কথা বলতে চাই-

একটা ছোটো সংগঠনের নেতৃত্ব হিসাবে আপনাদের বৃহৎ পরিসরে আমাদের আশ্রয় চাওয়ার কথা কিন্তু তা না হয়ে আপনিই কিনা আমাদের সকলের কাছে আশ্রয় তথা পরামর্শ চাইছেন, ইতিহাসের কি নির্মম পরিহাস!

আমরা জানি বিগত বাম আমলের কথা। মানুষ যখন বাম অপশাসনের বেড়াজালে হাঁসফাঁস করছিলো ঠিক তখনই তাদের বিকল্প হিসাবে আপনাদের বেছে নেয় একটা পরিচ্ছন্ন শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার শর্তে। ২০১১ মে মাসে রাজ্যে পরিবর্তনের সরকার গঠিত হয়। সমস্ত স্তরের মানুষ আশায় বুক বাঁধে। আপনারা সেই আশার কতটা বাস্তবায়ন করেছেন তা আপনারাই ভালো বলতে পারেন।

আমরা সকলেই জানি শিক্ষক হলো জাতির মেরুদণ্ড তৈরির কারিগর। সেই কারিগররা যদি অভুক্ত কিম্বা অর্ধভুক্ত থেকে মৃত্যু মুখে পতিত হয় কিম্বা ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয়। সর্বপরি তা চাইতে গিয়ে ‘ঘেউ ঘেউ’ শব্দ গুচ্ছ শুনতে হয়, তা বড়ই দূর্ভাগ্যজনক। আপনারা সেগুলির প্রতি দৃষ্টিপাত না করে আজ কিনা ইতিহাসের অমোঘ নিয়মে সর্বস্তরের শিক্ষার সাথে যুক্ত নাগরিকদের কাছে শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য পরামর্শ চাইছেন! তাও সোস্যাল মিডিয়ায়-এটা হাস্যকর নয় কি?যাকগে, যে গরু দুধ দেয় তার লাথ খাওয়া ঢের ভালো কিন্ত দুধের বদলে দই না জুটলেও চুন তো আমরা পেয়েছি!

আপনারা সরকারি ক্ষমতায় আসার আগে এবং পরে যেগুলি ঘোষনা করেছিলেন সেগুলি হলো-
১. শিক্ষায় দুর্নীতি মুক্ত করে স্বচ্ছ নিয়োগের ব্যবস্থা করা যা সম্ভব হয়নি।
২. সমস্ত স্তরের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একই ছাতার তলায় এনে যথাযথ মর্যাদা প্রদান যার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন নি।
৩. প্রথম শ্রেনী থেকে পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনতে পারেন নি যদিও কেন্দ্র এই বিষয়ে কিছু সংশোধনী এনেছে।
৪. টেট/এসএসসি বাংলার ছাত্র ছাত্রীদের কাছে সেরা প্রহসন ছাড়া আর কিছু নয় – সেটা কি আপনার দফতরের সেরা ব্যর্থতা নয়?
৫.পূর্বতন সরকারের নীতি প্রয়োগ করে শিক্ষার বেসরকারি করণের লক্ষ্যে সরকারি বিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়া কি উচিৎ বলে আপনি মনে করেন?

পরিশেষে, আমাদের তরফে আপনাদের অপরাহ্ণ বেলায় বিনীত পরামর্শ উল্লেখিত সমস্যাগুলির যথাযথ সমাধানের ব্যবস্থা করে জনমানসে একটু জায়গা করে নেবেন এবং দেখবেন শিক্ষার মানোন্নয়নে আর কাউকে পরামর্শ চাইতে হবে না।

শামীম আখতার
রাজ্য সম্পাদক
রাজ্য পার্শ্বশিক্ষক সমন্বয় সমিতি