পাঠকের কলমে, টিডিএন বাংলা : জীবনবাদী কবি ও সাহিত্যিক ড. ফিরোজা বেগম চার শতাধিক কবিতা লিখেছেন। কবির লেখনি থেকে তাই বাদ যায়নি মাতৃভাষার স্মৃতিও। তাঁর বেশ কিছু কবিতায় একুশের স্মৃতি ফুটে উঠেছে, যেমন- ‘উৎস ভাষা মানুষের কলম’ ‘একটা একুশ, একটা নারী ও ডাকঘরের অমল’ ইত্যাদি।

তিনি তাঁর ‘উৎস ভাষা মানুষের কলম’ শীর্ষক কবিতায় একুশকে এই ভাবে স্মরণ করেছেন- “আজকাল; একটা একুশ জানলা খুলে দিলেই; চোখে পড়ে, ঘোলাজলে মাছ ধরার খালুই দৃশ্য!
বিশেষ অগ্নি সতর্কতায় কিছু নিষ্পাপ মানুষ,
একুশের কথা বলে, ঘরের আনাচে কানাচে।
অথচ; শব্দের ঘ্রানটাকে সহজে চেনা যায় না
এখন; অন্য এক ভাষা সময়কে দেখতে থাকে-
ওরা, জাব্বার, রোশেনারা ও বরকতেরা।
কারও আবিল দম্ভোক্তিতে; হয়তো ওরা ছুঁতে পারে না,-
ন্যূব্জ কুব্জ বিকলাঙ্গ-আলোছায়ার মায়াবী বিশ্বটাও
ওরা জানতো, ঋতু বদল হলেই সব একুশ’কে ছোঁয়া যায় না !
অথচ, আবহমান একটা অক্ষরকে জালানোর জন্য,
একটা ‘একুশ -স্বপ্ন ‘ বা স্বপ্ন সময় ওরা আমাদের দিয়ে গেছে।
দিয়ে গেছে, পৃথিবীর বিশীর্ণ পাতা ঝরে যাবার বেলায়,
অথবা, ফাগুন-রোদের কচি পাতার সময় দেখতে।
তাই একুশের মর্ম্মভেদী শহীদ অস্থিত্বে এখন
ভয়ঙ্কর অন্য এক চার দেওয়ালের খেলা।
ক্রমশঃ গোষ্ঠী গন্ডির স্তরে স্তরে আটকে যায় খেলাটা!
তবু বছর ও স্মরণের পুর্নতায় একুশ হিসেব চলতেই থাকে।
দায়বদ্ধ সংখ্যার সিড়ি ভাঙতে ভাঙতে, ফণা তোলে সর্প সময়।
আর; বাণিজ্যের ঘোলাজলে বিষন্ন হয় একুশের ছাড়পত্র !
ছায়াবদ্ধ একুশ কবিতার সজীব রক্ত পড়ে এখানে -ওখানে।
একুশের ঢেউ ওঠে অনেক নির্জন মানুষের অচেনা অবয়বে।
সাজানো বক্তৃতার সাজুয্য ভেঙে ঢেউয়ে ভাসে রক্তগোলাপ।
ভাসে, প্রতিবিম্বত অন্ধকারে মানুষ নামের পরিচয়।
বুকের পাঁজর ভেঙে ভাষা সময় বলে অন্যকথা।
এখন, ‘ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী ‘ যেন কোন নিরালম্ব আত্মা,
তবুও আত্ম সর্বস্ব পৃথিবী খোঁজে তার মাতৃভূমি,
তবুও আত্মসর্বস্ব মানুষ খোঁজে তার মাতৃভাষা।
তবুও, আত্মসর্বস্ব জীবন সেই আদিম ইতিহাসের কাঙাল,
তবুও, একুশ ইতিহাসের রক্ত ঝরে উৎস-ভাষা মানুষের কলমে।

তেমনই ‘একটা একুশ, একটা নারী ও ডাকঘরের অমল’ নামক লেখনিতে তিনি লিখেছেন – “তবু এক অন্ধ- সময়ের পথান্তর ছুঁয়ে এক মানুষ ফেরিওয়ালা ছুঁয়ে এক মানুষ ফেরিওয়ালা ফেরে তার আপন ডেরায়, সে সময়, কোন ‘একুশ’ বা কোন ভাষা ঠিকানাই আমি খঁজতে পারি না। খুজে ফিরি তাদের , যারা পৃথিবীর মুক্তনদীর সীমানা ঠিকানায় ভেসে গেছে অনেক জাব্বার,রফিক, বরকত, রোশেনারা বা আরও কোন অমল সন্তান যাদের স্বপ্ন -শব্দের জন্যই কত শত মানুষ ঠিকানার হাতে খড়ি !”

মেহেবুব হোসেন
ছাত্র
আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়