পাঠকের কলমে, টিডিএন বাংলা : শৈশব কাল থেকে আমার মধ্যে সাহিত্যের ছোঁয়া খুব একটা গাঢ় ছিলনা। আজও খুব ভালো করে মনে পড়ে, স্কুল ম্যাগাজিনে আমার লেখা প্রকাশিত হোক এটা নিয়ে বেশ স্বপ্ন দেখতাম। লেখা দিয়েছিলাম বার কয়েক, কিন্তু কোনো বারেই প্রকাশিত হয়নি। তারপর কেমন করে জানি কবিতা লিখতে পারতাম একটু একটু।

তারিখটা খেয়াল নেই। সেই দিন নানিমার বাড়িতে দুই খালামনি সহ আম্মাজির আসর জমার আয়োজন করা হয়েছিল। হঠাৎ মায়মুনা আপা খবর দিল টিডিএন বাংলা থেকে সাংবাদিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই মূহুর্তে মনে মনে ঠিক করেছিলাম আমাকে যেতেই হবে। বাড়িতে কলেজে যাওয়ার মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে টিডিএন বাংলার প্রশিক্ষণ শিবিরের যোগদান করেছিলাম। যেহেতু আব্বু আমার সাংবাদিক হওয়ার ইচ্ছার প্রতি ছিল তীব্র বিরোধী। তারপর থেকে শুরু আমার নড়বড়ে কলমের যাত্রা।

টিডিএন বাংলায়  যখন ছিলাম নবগত তখন কবিতাতেই ছিলাম সীমাবদ্ধ। ইমরান ভাই বারবার বলতো, “আঁখি কিছু আর্টিকাল লেখ, লেখার মধ্যে আছে অপরিমেয় আনন্দ।” আমি উত্তরে বারেবারে বলতাম আমার মত অধৈর্যবান মানুষ কী করে আর্টিকাল লিখতে পারে ? সেই দিনটার কথা খুব মনে পড়ে যেদিন কাঠুয়ার  আসিফার জন্য কবিতা প্রকাশিত হওয়ার পর, টিডিএন বাংলার রেবাউল মন্ডল স্যার প্রায় এক প্রকার বাধ্য করে “ধর্ষকরাও ধর্মের আশ্রয়ে, এ লজ্জা রাখি কোথায়” লিখিয়েছিলেন।

এভাবেই শুরু হয়েছিল আমার নড়বড়ে কলমের একটু একটু করে বেড়ে ওঠা। আজ  রাজনীতি নিয়ে আব্বুর সাথে আলোচনা হলে আব্বু যখন পরামর্শ দেয়- “আঁখি এটা নিয়ে তোর লেখা দরকার।” যখন ছোট খালমনির থেকে শুনি ছোট খালু আমার লেখা পড়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকে। ইংরেজি সাহিত্যের তুখড় অধ্যাপক আক্রাম হোসেন যখন বলেছিলেন, “লেখার বাঁধন এক্সসিলেন্ট, লেখাটা ছাড়লে কোন ভাবেই হবেনা, বাবা লেখাটা চালিয়ে যেতে হবে,” শৈশবের খালিদ স্যার যখন বলেন, “আঁখি! এক্সিলেন্ট, চালিয়ে যাও।” তখন মনে হয় সেই দিনে বাড়ির অজান্তে টিডিএন বাংলার সাংবাদিক প্রশিক্ষণের শিবিরে যোগদান করাটা বৃথা হয়নি।

আমি খুব একটা বড়ো লেখিকা নই তা অকপটে স্বীকার করতে দ্বিধা নেই। তবে টিডিএন বাংলা আমাকে দিয়েছে মানুষের পাশে থাকার তাগিদ, অন্যায়, জুলুম, রাহাজানির বিরুদ্ধে এই বিংশ শতাব্দীর উপযুক্ত হাতিয়ার ‘কলম’ তুলে নেওয়ার সাহস।

টিডিএন বাংলা যদি সেই না সুযোগ দিত, ব্যর্থ হতাম আমার স্বপ্নের মহানায়ক কে চিঠে লিখতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমার তোলা আওয়াজ ব্যর্থ হত সকলে কাছে পৌঁছাতে। ব্যর্থ হতাম রাজান আল রাজ্জান, আহেদ তামিমের মত বীরাঙ্গনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে। ধন্যবাদ টিম টিডিএন বাংলা আমার মত অক্ষমের আগোছালো কথা সকলের সামনে উপস্থাপন করার জন্য।

অন্তের অন্তস্থল থেকে দোয়া করি টিডিএন বাংলা লক্ষ আলোকবর্ষ ধরে
যেন তুমি এগিয়ে যেতে পার। প্রভুর রহমতে যেন অসত্যের ঘোরটোপ থেকে বরাবরের মত সত্য উঠে আসুক তোমার হাত ধরে। আরফাজুলের কন্যার মত তুমি লাখো মজলুমকে এমনি ভাবেই দাও যেন আগামীতেও  বাঁচার আশা। এমনিভাবেই তোমার হাত ধরেই ইমাম রাশদির মত সহস্র সৎ ব্যাক্তি হয়ে উঠুক হিংসার ঘোর অন্ধকারে সম্প্রীতির উজ্জ্বল প্রতীক। আজ আমি সৌভাগ্যবতী টিডিএন বাংলা পরিবারের ছোট্ট অংশ হওয়ার কারণে।

আফরিদা খাতুন আঁখি
পাঁচলা, হাওড়া