পাঠকের কলমে, টিডিএন বাংলা: আপনি ডাক্তারের কাছে যাবেন? গাছের দিকে তাকান। আপনি নিজের ছেলেমেয়ে কে স্কুলে ভর্তি করবেন? গাছের দিকে তাকান। গাছ হয়ে উঠেছে যেন সকলের সেরা ঠিকানা। পেয়িং গেস্ট থেকে শুরু করে প্রাইভেট টিউটর, গান, বাদ্যযন্ত্র শিক্ষা স্কুল কিংবা নার্সিং ট্রেনিং। সবার ফোন নম্বর সহ ঠিকানা বলে দিচ্ছে গাছ। গাছের দিকে তাকালেই আমরা সব সমাধান পায়। শুধুই যে অক্সিজেন দেয় গাছ তা নয়। আরোও অনেক কিছু দিয়েই উপকার করে। তাই গাছের অপর নাম জীবন। এ যেন চরম সত্য বাণী।

হ্যাঁ, এবার আসি মূল কথায়। “একটি গাছ একটি প্রাণ”- এই মন্ত্রে আমরা দীক্ষিত, কিন্তু তার আক্ষরিক অর্থ ছিল আলাদা। বর্তমানে কথাটি ঠিকই আছে কিন্তু তার আক্ষরিক অর্থ অন্যরকম। গাছে কত প্রাণ বেঁচে থাকে, কথাটা শুনে হয়তো আপনি অন্য ভাববেন। কিন্তু আমি ভাবছি অন্য কথা, হ্যাঁ গাছে প্রাণ বেঁচে থাকে। কিভাবে থাকে ? সেই প্রশ্নের উত্তরে বলতে গেলে গাছে বিভিন্ন কোম্পানি, সংস্থা ইত্যাদির বিজ্ঞাপন দেওয়া থাকে সেই বিজ্ঞাপনের ভিত্তিতে বিভিন্ন মানুষ দুবেলা খেয়ে বেঁচে থাকে, সেই অর্থে গাছে কত প্রাণ বেঁচে থাকে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে গাছে পেরেক ঠোকা মারাত্মক ক্ষতি করছে রাস্তার দুধারের গাছ গুলির।

যত বেশি পেরেক পোতা হচ্ছে ততবেশি ক্ষতি হচ্ছে ওই গাছটির। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাছের গায়ে পেরেক পুতলে গাছের জল ও খাদ্য পরিবহনকারী জাইলেম নালি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এর ফলে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হবে। কতটা ক্ষতি হবে তা নির্ভর করে গাছে কতটা পেরেক পোতা হল। গাছের ফাঙ্গাল ইনফেকশনও হতে পারে। এর ফলে গাছের কোষ নষ্ট হয়ে বৃদ্ধি প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর প্রভাব ভবিষ্যৎ বাস্তুতন্ত্রে পড়বে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

করিমপুর থানা এলাকার কাঁঠালিয়া গ্রামের প্রায় প্রত্যেকটি গাছে দেখা যায় বিভিন্ন কম্পানি, রাজনৈতিক দল, সংস্থা ইত্যাদির বিজ্ঞাপন। সেগুলো টাঙাতে গেলে পেরেক দিয়ে বিদ্ধ করতে হয়। কোনো গাছের কান্ড আর চোখে পড়েনা। মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে। এই ভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে গাছের অস্তিত্ব থাকবেনা। গাছেদের এমন দুর্দশায় স্বভাবতই উদ্বিগ্ন পরিবেশবিদরা। জনবহুল এলাকায় প্রায় প্রত্যেকটি গাছেই এমন অসংখ্য বিজ্ঞাপনে ভরে গেলেও প্রশাসনের হেলদোল নেই।

ছাবির সেখ
কাঁঠালিয়া, করিমপুর
নদীয়া