পাঠকের কলম, টিডিএন বাংলা : আলোচনায় তুঙ্গে উঠেছে সদ্য প্রচারিত সার্ফ এক্সেল এর হোলির বিজ্ঞাপন। চারিদিকে সাম্প্রদায়িকতার বিষ বাষ্পে এই বিজ্ঞাপন টি যেন শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের হৃদয়ে সৃষ্টি করেছে এক প্রশান্তির আবেশ। যুদ্ধংদেহী পরিবেশের মাঝে বিজ্ঞাপন টি ফুটিয়ে তুলেছে মানবতার এক অনন্য চিত্র। সার্ফ এক্সেল এর হোলি বিজ্ঞাপন টি গেয়ে উঠেছে ভিন্নতার মধ্যে ঐক্যের জয়গান।

বিজ্ঞাপনটি তে দেখা যায় একটি বাচ্চা মেয়ে তার মুসলিম বন্ধুকে মসজিদে যাওয়ার পথে রঙ থেকে বাঁচার জন্য বুদ্ধিমত্তার সাথে নিজের গায়ে সব রঙ মেখে নেয়। নিজে তার বন্ধুকে মসজিদের দরজায় পৌঁছে দেয় আর বলে আসে ফেরার পথে রঙ মাখতে হবে। আর তার প্রতিউত্তরে তার বন্ধু বলে ‘ঠিক আছে’।

শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের কাছে এই বিজ্ঞাপনটি মানবতার এক অনন্য খণ্ড চিত্র মনে হলেও ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া তে সার্ফ এক্সেল নামক স্বনামধন্য কোম্পানি পড়তে চলেছে এক কঠিন পরিস্থিতিতে। সোস্যাল মিডিয়াতে “হ্যাশ ট্যাগ” দিয়ে শুরু হয়েছে সার্ফ এক্সেল কে প্রত্যাখান করার প্রয়াস। এক দল স্থূলবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের অভিযোগ, ওই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে হোলির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এই সমস্ত উগ্র মানসিকতার অধিকারীদের আরও অভিযোগ, বিজ্ঞাপনের শেষ অংশটা নাকী লাভ জিহাদের ইঙ্গিত দেয়।

উদার মানবিকতা যদি এইভাবে সাম্প্রদায়িক বিভেদের রঙে রাঙা হতে থাকে, তাহলে সমগ্র ভারতের ঐতিহ্যই ভেসে যাবে বিলীনের পথে। নেহাত দুটি কিশোর-কিশোরীর সম্প্রতি সুরের মধ্যে যারা লাভ জিহাদের গন্ধ পায়, তাদের মানসিকতা যে কতটা কলুষিত তা বলার আর অবকাশ থাকে না। এই সমস্ত বিভেদকামীরা প্রতিটি বিষয় নিয়েই সৃষ্টি করতে চায় সাম্প্রদায়িকতার বিষ বাষ্প। যেখানে ভিন্নতার মধ্যে ঐক্যই ভারতের চিরাচরিত ঐতিহ্য সেখানে এই সমস্ত মানুষরা কোন সাহসে এই ভিন্নতাকে মুছে দিতে চাই? এই নীচ মানসিকতা কেবলমাত্র একটি মাত্র ধর্মালম্বী মানুষদের শত্রু নয়, বরং সমগ্র ভারতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির শত্রু।

আফরিদা খাতুন আঁখি
পাঁচলা, হাওড়া