পাঠকের কলমে, টিডিএন বাংলা : শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে ব্যানটন ট্যারান্ট নামক এক শেতাঙ্গ প্রবেশ করে এবং এলোপাথাড়ি গুলি চালায় মুসল্লিদের উপর। এখনও পর্যন্ত নিহতদের সংখ্যা ৪৯, আহত ২০’র বেশি। যখন খোদ নিউজিল্যান্ডের মিডিয়া এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যাক্তিকে ‘সন্ত্রাসী’ বলে আখ্যায়িত করছে, তখন সেখানে আমাদের দেশের কিছু মিডিয়া ব্যাক্তিকে ‘বন্ধুকবাজ’ বলে ব্যাপারটা খাটো করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এর মধ্যদিয়ে তারা যেমন সন্ত্রাসের ট্যাগ কেবল বিশেষ এক সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষণ করেছে, তেমনি নিহত ব্যাক্তিবর্গের প্রতি চরম অবজ্ঞাও করেছে। মিডিয়া আমজনতার সামনে সত্য উপস্থাপনের জন্য গঠিত হয়। কিন্তু বর্তমানে তা কেবল বিশেষ একশ্রেণীর রাজনৈতিক দলের দালালিতে ব্যস্ত। সবথেকে দুঃখজনক হল গর্বের ভারত কোথাও না কোথাও তার ধর্মনিরপেক্ষতা হারাচ্ছে। এইরকম এক মর্মান্তিক ঘটনায় কিছু ভারতীয় বেজায় খুশি হয়েছেন, এমনকি আফসোস করছেন বাকিদের মৃত্যু না হওয়ায়! ভাবতে পারেন!

এটা কি নেতাজি-উবাইদুল্লার সেই ভারত যেখানে ইংরেজদের থেকে স্বাধীন হওয়ার জন্য কাঁধেকাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিলাম? আজ সেই ইংরেজ, যারা কৃষ্ণাঙ্গ মুসলিমদের খুন করলো, তাদের তোষামোদ করছেন? আপনি কি ভুলে গেছেন, ওইসব শেতাঙ্গদের মতে ভারতীয়রাও কৃষ্ণাঙ্গ? আজ হাসছেন, কাল কিন্তু আপনার উপরও গুলি চলতে পারে,কারন আপনিও কৃষ্ণাঙ্গ! প্রস্তুত আছেন তো?

আজ সত্যি ভাববার দিন। একজন মরলে আরেকজন হাসবে! আর কত দিন চলবে এসব? আপনার আমার এই ধর্মখেলার মাঝে লাভ হচ্ছে কিন্তু সমাজের জন্য বিপদজনক কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর। তারা গদি পাওয়ার জন্য আপনার আমার হাতে চুরি-বন্ধুক তুলে দেয়। খেয়াল করবেন তারা নিজেরা কিন্তু মাঠে নামে না।

আজকের সমাজে এমন বিশৃঙ্খলার জন্য আপনিও দায়ী। গুজবে কান দিয়ে আপনিও হিংসা পুষে রেখেছেন মনে। সুযোগ পেলে আপনিও তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতার আড়ালে শিকরের টানে দুর্বল হয়ে পড়েন।গায়ের গোসসা মিটিয়ে নেন। যদি তা না হয়, তাহলে আপনিই বলুন, সমাজে হিংসা-বিদ্বেষ প্রতিরোধের জন্য কি কি পদক্ষেপ নিয়েছেন? সত্যি করে বলুন তো আপনি কি সত্যিই সেই ভারতবাসী যে ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করে?

যদি কেউ বা কারা হিংসা-দাঙ্গা ছড়ানোর চেষ্টা করে আর আপনি শেষ ম্যাচ দেখার জন্য অপেক্ষা করেন,তবে জেনে রাখবেন আপনিও কিন্তু সেইসব সন্ত্রাসীদের দলভুক্ত। কাজে না করলেও আপনি মনে মনে সেটাই চান যা তারা করছে। এইরকম এক বিপদজনক বেড়াজাল থেকে বেরোনোর জন্য যা করনীয় তা আমার আপনার দায়-দায়িত্বও বটে। মিডিয়া যখন উত্তপ্ত পরিবেশে ঘি ঢালার চেষ্টা করে একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে আমাদের উচিৎ হবে ওইসব ফাঁদে পা না দিয়ে বেশি বেশি করে সম্প্রীতির আলোচনা করা।

সম্প্রীতির আহ্বান করে মানুষদের বোঝাতে হবে আসলে কি হওয়া উচিৎ আর কি নয়। তাই আসুন আজ দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হই যারা আমাদের সম্প্রীতির দেশে হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে তাদের গালে সপাটে চড় কষে আসুন আজ বলি, “সন্ত্রাস কোনো ধর্ম নয়, এটা ধর্মকল্প, যা কিছু বিকৃত মস্তিষ্করা নিজেদের স্বার্থের জন্য বানিয়েছে। আর তারা নিজেদের আড়াল করার সময় ধর্মের পেছনে আত্মগোপন করে।”

মাহ্ফুজা তারান্নুম
নন্দকুমার
পূর্ব মেদিনীপুর