পাঠকের কলমে, টিডিএন বাংলা: চলছে মুসলিম সম্পদায়ের আত্মশুদ্ধির মাস মাহে রমজান। এই মাসের শেষে আসে সবচেয়ে বড় আনন্দের উৎসব ঈদ-উল-ফিতর। মুসলিমদের সবচেয়ে বড় উৎসব। এবছর রমজান মাস শুরু হয়েছে ৭ মে। হিসেব অনুযায়ী ঈদ-উল-ফিতর হওয়ার কথা ৬ জুন। যদিও চাঁদ দেখে তবেই ঈদ-উল-ফিতর পালন করা হবে। তবে ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ঈদ-উল-ফিতর হচ্ছে ৫ জুন। আর সেই দিকে খেয়াল রেখে বারাসাত ইউনিভার্সিটি তাদের বিএ, বিএসসি, বিবিএ ইত্যাদি পরীক্ষার দিন ধার্য করেছে ৪ ও ৬ জুন। আর সেখানেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।

বারাসত ইউনিভার্সিটির এই সিদ্ধান্তের জেরে ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, এমনিতে ঈদের ছুটি নিয়ে মুসলিমদের বঞ্চিত করেছে রাজ্য সরকার। অথচ পুজোর ছুটি নিয়ে কোনো আবেদন ছাড়াই বাড়ানো হয়েছে। তাতেও আমরা খুশি। অথচ ঈদের ছুটি বাড়ানো হয়না। বারাসাত ইউনিভার্সিটির দায়িত্বে যারা আছেন তাদের অমানবিকতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ওই একই দিনে পরীক্ষা রেখেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ও।

যদিও খবরের জেরে পরীক্ষাসূচি বদল করতে বাধ্য হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বারবার কি এভাবেই চলতে থাকবে? সংখ্যালঘু নেতারা সোচ্চার হবেন, স্বারক লিপি দেবেন আর তারপরই টনক নড়বে বিশ্ববিদ্যালয়ের? এই চক্রান্ত কেন?

গত বছর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদের আগে পরে পরীক্ষা থাকায় মুসলিম পড়ুয়ারা ঈদ কাটাতে বাধ্য হয়েছে তাদের হোস্টেল ও মেস গুলিতেই। মুসলিম পড়ুয়াদের বাৎসরিক ঈদ টাও কি পরিবারের সাথে কাটাতে দেওয়া হবে না? ভারতবর্ষের মত বৃহত্তম  গণতান্ত্রিক দেশে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় উৎসব  ঈদের দিন যদি পরীক্ষা দিতে হয় তাহলে দেশের গণতন্ত্র থাকছে কোথায়?

ছাবির সেখ,
কাঁঠালিয়া, করিমপুর, নদীয়া