টিডিএন বাংলা ডেস্ক : হোমিও জাহাঙ্গীর ভাবা। ভারতের পরমাণু বিজ্ঞানের জনক। ১৯৬৬ সালের ২৪ জানুয়ারি বিমান দুর্ঘটনায় এই মহানবিজ্ঞানীর প্রয়ান ঘটে।

১৯০৯ খ্রিস্টাব্দের ৩০ অক্টোবর হোমিও ভাবা একটি দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী এবং রাষ্ট্রীয় কাজে আনুগত্য প্রদর্শনকারী সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম হরমুসজি ভাবা, যিনি পেশায় ছিলেন একজন সুপরিচিত আইনজীবী এবং মাতার নাম মেহেরিন।

ছোট বেলায় তাঁর ঘুম খুব কম হত। যা নিয়ে তাঁর মা-বাবা খুব চিন্তিত ছিলেন। একজন বড় ডাক্তারের কাছে জাহাঙ্গীর কে নিয়ে যাওয়া হয়। ডাক্তার ভাল করে পরীক্ষা করে বললেন, আপনাদের চিন্তার কোন কারন নেই। আপনাদের ছেলে জন্মেছে একটি সক্রিয় মস্তিষ্ক নিয়ে। চিকিৎসা বিদ্যায় যাকে বলে সুপার এক্টিভ ব্রেইন, যার ভেতর অনবরত চিন্তার স্রোত প্রবাহিত হয়।

লন্ডনে পড়াশোনা চলাকালীন তিনি নিউটন স্টুডেন্টশীপ পান। সেখানে তাঁর থিসিস জমা দেওয়ার পর তাকে পিএইচডি উপাধি দেওয়া হয়। সেই সাথে “১৮৫১ এক্সিবিশন স্টুডেন্টশিপ” বৃত্তি দেওয়া হয়। পান ‘রাউজ বল ট্রাভেলিং স্টুডেন্টশীপ’। ১৯৫৪ তে তিনি পদ্মভূষণ এ সম্মানিত হন।

কোপেনহেগেনে থাকা কালীন তিনি ড.ডাব্লিউ হাইটলার এর সহযোগিতায় তিনি “cascade theory of cosmic ray shower” তত্ত্ব আবিষ্কার করেন যা ছিল তাঁর বৈজ্ঞানিক প্রতিভার প্রথম স্ফুরণ।

তিনি একাধারে ছিলেন একজন বিজ্ঞানী, সংগঠক, চিত্র শিল্পী, সুনির্মল গানের শ্রোতা। জীবন সঙ্গী হিসেবে বিজ্ঞানকেই বেছে নিয়েছিলেন তিনি। একদিন এক সহপাঠীকে ডিটেকটিভ বই পড়তে দেখে বলেছিলেন, “বিজ্ঞানের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ডিটেকটিভ বই আর কি হতে পারে।”

ভারতের একজন প্রসিদ্ধ নিউক্লীয় পদার্থবিজ্ঞানী, প্রতিষ্ঠাকালীন ব্যবস্থাপক এবং টাটা মৌলিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এর পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন জাহাঙ্গীর৷ তাছাড়া তাঁকে ‘ভারতের নিউক্লীয় প্রোগ্রামের জনক’ বলা হয়। তিনি ভারতের দুটি প্রসিদ্ধ শিক্ষা তথা গবেষণা প্রতিষ্ঠান টাটা মৌলিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান(TIFR) এবং ট্রম্বে এটমিক এনার্জি (AEET) প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাকালীন ব্যবস্থাপক ছিলেন(যা বর্তমানে তাঁর নামে নামকরণ করা হয়েছে); উভয় প্রতিষ্ঠানই নিউক্লিয়ার অস্ত্রে ভারতের অগ্রগতিতে ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। যেখানে জাহাঙ্গীর স্বয়ং তত্ত্বাবধায়করূপে ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করতেন।

ড.হোমিও জাহাঙ্গীর ভাবা যখন পরমাণু বিষয়ে বক্তৃতা দিতেন তখন কেউ ভাবতেও পারত না পরমাণু দ্বারা অকল্যানকর কিছুও করা যায়! ভারতের পরমাণু বিজ্ঞানের জনক এই হোমিও জাহাঙ্গীর ভাবাকে আজও দুনিয়া কুর্নিশ জানাই।