টিডিএন বাংলা ডেস্ক: শুক্রবার আকাশে উল্কা বৃষ্টির বিরল সাক্ষী হতে পারেন আপনি। রাত ১১টা থেকে রাত ২টো পর্যন্ত ঘণ্টায় কমপক্ষে ১০০টি উল্কা পতন চাক্ষুষ করতে পারেন জেলার মানুষজন। রাতে কলকাতার আকাশে বাড়তি আলো থাকায় এবারের উল্কা বৃষ্টি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শহরবাসী। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ভারতের বেশিরভাগ রাজ্য থেকে দেখা যাবে ওই উল্কা পতন।

গোটা বিশ্বে প্রতি বছরই ১৩ ও ১৪ ডিসেম্বর দেখা যায় এই উল্কা বৃষ্টি। একে ‘জেমিনিড মেটিওর শাওয়ার’ বলে। বাংলা তর্জমায় ‘মিথুন রাশি উল্কা বৃষ্টি’। ভৌগোলিক অবস্থানের বিচারে ভারতে একদিন দেখা যাবে। সেটি শুক্রবার। রাতের আকাশে খালি চোখেই দেখা যায় ওই আকাশ থেকে ঝরে পড়তে থাকা সাদা আলোর ফুলকি।

রাজ্যে যেখানে রাতের আকাশের রং কালো সেখানে ভালোই দেখা যাবে এই উল্কার পতন। রাতের আকাশে এখন চাঁদ না থাকায় উল্কা বৃষ্টি দেখতে জেলার মানুষদের তেমন বেগ পেতে হবে না। সাধারণত প্রতি মিনিটে ১ থেকে ২টি উল্কার পতন ঘটে। মহাজাগতিক ওই দৃশ্য দেখার সবচেয়ে ভালো সুযোগ পাবেন পুরুলিয়া আর পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলো।

কলকাতা আকাশে বাড়তি আলোর পাশাপাশি দূষণ বেশি থাকায় ভালো করে রাতের তারাই দেখা যায় না। তাই এখানে উল্কাপাতের মতো ঘটনা দেখাটা খুবই কঠিন।

কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলের বিজ্ঞানী ড. দেবীপ্রসাদ দুয়ারি জানাচ্ছেন, গ্রহাণু পেথনের ধ্বংসাবশেষের ধুলিকণার মধ্যে দিয়ে এই সময় পৃথিবী নিজের কক্ষপথ ধরে এগতে থাকে। আর সেইসময় পেথনের ধুলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্যে ঢুকে পড়ে। কিন্তু সেই ধ্বংসাবশেষের কণা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্যে ঢুকে পড়লেই তা জ্বলে ওঠে। তখন সেটাকে সাদা চোখে উল্কাপাত বলে মনে হয়।

ডিসেম্বর মাস ধরেই এই উল্কা বৃষ্টি হলেও সবচেয়ে বেশি সংখ্যার পতন ঘটে ১৩ আর ১৪ তারিখে। এই সময় বৃষ্টির মতো মুহুর্মুহু ছুটে আসতে থাকে ওই ধুলিকণা। দেখতেও তা মোহময়। রাতের আকাশে এই মহাজাগতিক ঘটনা দেখতে পাওয়াটা বেশ বিরল ঘটনা। আকাশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে যায় ওই উল্কারূপী গ্রহাণুর ধ্বংসকণা।

আকাশপ্রেমীরা অনেকেই রাতের আকাশের তারা খসা দেখতে রাত জাগেন। আর যদি তা হয় তা মুহুর্মুহু উল্কাপাত হয় তাহলে তো আনন্দের শেষ নেই। ডিসেম্বর মাসে রাতের আকাশে এই সময়টাতে উল্কাপাতের ঘটনা ঘটেই থাকে। গোটা বিশ্বের মানুষ এরজন্য অপেক্ষা করে থাকেন। পৃথিবীর তাবড় তাবড় চিত্রশিল্পীরা সেই উল্কা বৃষ্টির ছবি আঁকতে ছোটেন হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে। চিত্রগ্রাহীরা ভিড় বাড়ান পাহাড়ি এলাকায়। শহরের বাড়তি দূষণ আর আকাশের আলো উল্কা বৃষ্টি দেখার মুহূর্তকে কেড়ে নিল।