টিডিএন বাংলা ডেস্ক : ন্যায়বিচার বদলে যাচ্ছে প্রতিহিংসায়, সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারে চিন্তায় সমাজবিজ্ঞানীরা। পুলওয়ামা ঘটনার পর দেশভক্তি সোশ্যাল মিডিয়াতেই আটকে না থেকে বাইরে ছড়িয়ে পড়ায় সমস্যা আরও বেড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সমাজবিদ এবং গবেষকেরা বলছেন, এক দিকে মানুষের মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে যুদ্ধ। প্রতিহিংসার মন্ত্র দিয়ে হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে অদৃশ্য মেশিনগান। কখনও বাণিজ্যিক, কখনও রাজনৈতিক স্বার্থে বিক্রি করা হচ্ছে এই স্নায়বিক এবং মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে।

ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মনস্তত্ত্ব বিভাগের অধিকর্তা ভামিক ভলকান-এর তত্ত্ব অনুযায়ী, প্রত্যেকটি দেশ তাদের কোনও একটি বিপর্যয়কে ‘বেছে নেয়’। ভলকান একে বলছেন ‘চোজ়েন ট্রমা’। সে দেশের প্রজন্মের পর প্রজন্ম সেই বিপর্যয়টির সঙ্গে নিজেদের জাতিগতভাবে একাত্ম করে রাখে। সেই দুঃখ বা ক্ষত তার অবচেতনে গড়ে দেয় প্রতিশোধচেতনাও।

পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের বিভাগীয় প্রধান ঋতু সেন চৌধুরীর মতে, ‘শান্তি এবং ন্যায়বিচারের তুলনায় দ্বেষ এবং প্রতিহিংসা বেশি বিক্রি হয়। ফলে এখন বহু ক্ষেত্রেই হিংসা ন্যায়বিচারের জায়গা নিচ্ছে। বিচারের জন্য চর্চা, নিজস্ব সময়, যুক্তি ও ধৈর্যের প্রয়োজন। কে আর অত সময় দেবে! বরং সহজ হল, আজ যারা শান্তির কথা বলছে, তাদের উপর গায়ের ঝাল মেটাও।’ তাঁর কথায়, ‘এটাই এখন প্রশ্ন যে, পাওয়ার অব আ কমন ম্যান (‘আ ওয়েনেস ডে’ ছবির বিখ্যাত সংলাপ) আসলে ঠিক কী? তাকে তো এখন ফাসিস্ত যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। শুধু পুলওয়ামা কাণ্ডই নয়, সমাজ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এই ফাসিস্তধর্মী অসহিষ্ণুতা বাড়ছে।’

ভারতীয় সমাজবিজ্ঞানীদের একটি অংশ মনে করেন, ভারতে দেশভাগই সেই ‘চোজ়েন ট্রমা’ যা উপন্যাস, গান, শ্রুতির মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্মে বাহিত হয়ে চলেছে। এত বছর পরেও সেই স্মৃতি বদলায়নি। বরং স্মৃতিবাহিত হয়ে মানুষের মস্তিষ্কের বাম গোলার্ধকে (যা যুক্তি নিয়ন্ত্রণ করে) অকেজো করে, জাগিয়ে তোলে মস্তিষ্কের ডান গোলার্ধকে (যা নিয়ন্ত্রণ করে আবেগ, প্রতিহিংসা, ভয়, ঘৃণা)। মুসলিমদের প্রতি বদলার মনস্তত্ত্বের এটি অন্যতম কারণ বলে মনে করেন তাঁরা।