শেখ শাহরিয়ার জামান, টিডিএন বাংলা: জ্ঞান ও সতর্কতার মাধ্যমে বর্তমানের জটিল ও আন্তঃনির্ভরশীল বৈশ্বিক ব্যবস্থায় ফেক নিউজ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।
তারা বলছেন, ২০১৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফেক নিউজ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদের বহুল ব্যবহার সারাবিশ্বকে নাড়া দিয়েছে। কারণ, এটি শুধু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেনি, সমাজকেও বিভক্ত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়ার্টন স্কুলের সিনিয়র লেকচারার জেমস জি ম্যাকগ্যানন বলেন, ‘আমরা গোটা চিত্রের একটি সামান্য অংশ দেখেছি মাত্র। যে ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে ঘটেছে, তা সারাবিশ্বে হবে এবং তা সব দেশের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। কারণ, বোতলের দৈত্য বের হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘এটি প্রতিরোধের সবচেয়ে ভালো ও সাধারণ উপায় হচ্ছে সতর্কতা অবলম্বন করা।’ এ বিষয়ে মিডিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
একই মত পোষণ করেন টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর মিডিয়া অ্যান্ড ইনফরমেশন লিটারেসির পরিচালক শেরিল হোপ কালভার। তিনি বলেন, ‘মিডিয়া লিটারেসি শিক্ষার মাধ্যমে ফেক নিউজ প্রতিরোধ করা সম্ভব। কারণ, এটি আমাদের কোনও খবরের বিষয়ে প্রশ্ন করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।’

তিনি বলেন, ‘মিডিয়া লিটারেসির মাধ্যমে একজন ব্যক্তি খবর সংগ্রহের উৎস সম্পর্কে জানতে পারেন, খবরকে বিশ্লেষণ করতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।’
দলীয় মত প্রকাশ এবং মীমাংসায় পৌঁছানোর জন্য মানুষের চেষ্টার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন অবশ্যই ভবিষ্যতে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন শেরিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া শহরের মেয়র জেমস কেনি বিশ্বাস করেন, ফেক নিউজ একবিংশ শতাব্দির একটি মৌলিক চ্যালেঞ্জ এবং আমরা সমাজের মধ্য থেকে এটি উত্তরণের পথ খুঁজে বেড়াচ্ছি।
তিনি বলেন, ‘মিথ্যা তথ্য প্রচারণার ক্ষেত্রে আমরা দেখছি, যুক্তরাষ্ট্র দেশ হিসেবে ভঙ্গুর। জনগণের একটি বড় অংশের মিডিয়া লিটারেসি না থাকার কারণে ইন্টানেটে যে তথ্য তারা পায়, সেটি বিশ্বাসযোগ্য কিনা, সেটি তারা বুঝতে পারে না।’

নিউজ লিটারেসি প্রকল্পের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী অ্যালান মিলার বলেন, ‘ফেক নিউজ প্রতিরোধের জন্য শিক্ষা অবশ্যই জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘যা দেখছে এবং শুনছে— সেই বিষয়ে প্রশ্ন করার মতো অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সক্ষমতা জনগণের থাকতে হবে।’

অ্যালান মিলার বলেন, ‘আমার মনে হয়, বর্তমানের এই ফেক নিউজের যুগে সাংবাদিকদের ভূমিকা এর আগে কখনও এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল না।’

ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্টার সালভাডর রিজ্জোর মতে, সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ তাদের কার্যকলাপে তেমন প্রভাব ফেলেনি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ করছি না, আমরা আমাদের কাজ করছি।