টিডিএন বাংলা ডেস্ক: বর্তমান প্রজন্মের কাছে ফেসবুক বিনা জীবন যেন অন্ধকার। কমবয়সীদের তো বটেই, অনেক প্রবীণদেরও সারাদিনের প্রায় অর্ধেক দিন কাটে ফেসবুকের টাইমলাইনে ঘুরে বেড়াতে। ফেসবুক নিয়ে নানা মত রয়েছে। অনেক সমালোচনা হয়েছে ফেসবুক নিয়ে। এই অ্যাপের ভালো-খারাপ দিক নিয়ে কম লেখালেখি বা আলোচনা হয়নি। কিন্তু তারপরেও কখনো মুখ খোলেননি ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ। তবে এবার ফেসবুক নিয়ে মুখ খুললেন স্বয়ং ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ। ফেসবুকের স্রষ্টা জানালেন, ফেসবুক তৈরি করাটাই ছিল ‘মারাত্মক ভুল’। ফেসবুক সমাজকে বিপুল ক্ষতির মুখোমুখি করছে বলেও স্বীকার করলেন তিনি।

ফেসবুকের ভাইস প্রেসিডেন্ট চামাথ পালিপিতিয়াও স্বীকার করলেন এটি প্রতিষ্ঠা করা ‘ভয়ংকর ভুল’ ছিল। এমনকি তার সন্তানকে ফেসবুক ব্যবহার করতে দেন না বলেও অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি।

জি নিউজের এক খবরে প্রকাশিত, জুকারবার্গ বলেন, সমাজকে অনেক ক্ষতির মুখোমুখি করছে এই ফেসবুক। এটি তৈরি করা হয় সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে। এজন্য এটিতে অনেক ধরনের টুলস যোগ করা হয়। তবে তার মতে এটি তৈরি করা ভয়ংকর ভুল ছিল।

জুকারবার্গ আরও বলেন, বিগত এক বছরে তার পরিষেবা থেকে সৃষ্ট একাধিক সংকটের জন্য তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার ট্রোলের ভুয়ো সংবাদ ছড়িয়ে দেওয়া এবং ২০১৬ সালের মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য রাজনৈতিক পরামর্শক সংস্থা ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ডেটা ব্যবহারের অভিযোগ উঠে।

জুকারবার্গ বলেন, ‘আমি মনে করি জীবনে ভুল থেকে শিখতে হবে এবং এগিয়ে যাওয়ার জন্য আপনার কী করা উচিত তা নির্ধারণ করতে হবে। বাস্তবতা হল, আপনি যখন ফেসবুকের মতো এমন কিছু তৈরি করছেন যা পৃথিবীতে নজিরবিহীন, তখন এমন কিছু জিনিস হয়ে উঠবে যেগুলো আপনাকে বিভ্রান্ত করে।’

ফেসবুকের ভাইস প্রেসিডেন্ট চামাথ পালিপিতিয়া জানান, ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে। সামাজিক কাজকর্ম করার জন্য ফেসবুক অনেক রকম টুলস এনেছে। তবে তিনিও জানান যে, তিনি নিজে অনুভব করেছেন এই ফেসবুক হলো ‘ভয়ংকর ভুল’। তিনি মনে করেন বর্তমানে সমাজ একটি কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।

চামাথ পালিপিতিয়া বলেন, কীভাবে মানুষের মন ঘোরানো যায় সেটা নিয়েও তারা ভাবছেন। কিন্তু তার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আরও বলেন, শিশুদের মাথায় কখন কী চলছে, সেটা শুধু ওপরওয়ালা জানেন!

ফেসবুক যেন এখন জীবনের অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে উঠেছে সমগ্র বিশ্বে। ভালোর পাশাপাশি খারাপভাবে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে জনপ্রিয় এই অ্যাপসটিকে। নানা অপরাধমূলক এবং প্রতারণামূলক কাজ করা হচ্ছে এটি ব্যবহার করে। জীবনের ওপর এবং সমাজের ওপর ক্রমেই ফেসবুক তার থাবা বসিয়ে চলেছে। নষ্ট হচ্ছে বহু সম্পর্ক। যার কারণেই চিন্তিত অ্যাপটির প্রতিষ্ঠাতা।